আমরা আসলে কেমন জিহাদের পাগল!

0
363

জিহাদী যুবক

“শুনেছিলাম জান্নাত দু’জায়গায় রয়েছে। মায়ের পায়ের নিচে ও তরবাবির ছায়াতলে। কিন্তু মুসলমানের জান্নাত এখন তাসবীহ্ দানায়..! আমার অ….নেক সাধ,জিহাদে গিয়ে গাজী হওয়ার উদ্দেশ্যে তরবারীর ছায়াতলে নিজেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে সঁপে দিয়ে জান্নাত পাওয়ার। যদি আজ কোন একজন নেতার নেতৃত্বে জিহাদের ডাক আসতো, যদি বলা হতো তাসবীহর দানা ছুঁড়ে, তরবারী হাতে নিয়ে রুদ্ধশ্বাসে বজ্রবাতাসের ন্যায় এগিয়ে আসো; জেরুজালেম আর সিরিয়াকে রক্ষা করা আজ তোমাদের একনিষ্ঠ কর্তব্য, আজ তোমরা হয়ে উঠো [ আলী- উমর-হামযা-বেলাল (রা:)] তাহলে আল্লাহর কসম করে বলি;আমি আজ তৃষ্ণার্ত গলায় পানি পান করে বিলম্ব করতাম না, মোহর করা কস্তুরীযুক্ত তাসনীমের মিশ্রণ করা পানির অপেক্ষায় প্রতিটি মুহুর্ত অতিক্রম করতাম। আর নিজেকে সিজ্জীন থেকে ইল্লিয়্যীনে পরিবর্তণ করে নিতাম। অত:পর কল্পনাতীত নেয়ামত আস্বাধন করতাম। অপেক্ষার তীব্র প্রহর গুনছি…..।”

এমনি অনেক কথা শুনতে হয় বর্তমানের টগবগে টকটকে লাল রক্তে উজ্জীবিত কিছু তরুণদের ঠোঁটে। যেন আকাশ চুম্বনকারী পাহাড় গুলোকে মূহুর্তে ধূলিসাৎ করা ক্ষানিকটা ব্যাপার তাদের কাছে। ধর্মের প্রতি তাদের তীব্র আবেগ, ভালোবাসা ও জান্নাত পাওয়ার চরম আকাঙ্খা তারা এভাবেই প্রকাশ করে। এরকম তীক্ষ্ণ বাক্যের সামনে নিজেকে তখন রুগ্ন ও মেরুদন্ডহীন মনে হয় । মনে হয় জান্নাতের পথ থেকে আমি ছিঁটকে পড়ে গেলাম বহুদূরে।
আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যের চেয়ে শহীদ হয়ে জান্নাতের নেয়ামত ভোগ করার উদ্দেশ্যটা তাদের তীব্র। অথচ সাহাবীরা (রা:) দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য শহীদ হয়েছেন কিন্তু শহীদ হওয়ার জন্য দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে মনোনিবেশ করেন নি। এটাই জঙ্গিবাদ আর জিহাদের মধ্যে পার্থক্য।

পাহাড় ধসিয়ে দেয়া যুবক গুলোকে যখন বলি ধর্ম সমন্ধে আরেকটু যাচাই করো, সত্যটা বুঝে উঠার সাথে সাথে তা আমল করো। তখন সেই যুবক গুলো মুখের বিকৃতিতে আর চোখের চাহনিতে বুঝা যায় তাদের কাছে এতো সময় নষ্ট করা অনর্থক…অথচ তাদের পরিবার কিংবা সমাজ থেকে যখন ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর মতবাদের লোকগুলো চাপ দিতে শুরু করে তখন তারা সুন্নাহকে ছেড়ে দিয়ে বলে, আমরা হিকমা প্রয়োগ করছি…অথচ তারাই জিহাদের মৃত্যু কামনায় সর্বদা নিজেকে কমান্ড করে। তারা ধর্মপ্রচারে নিজেকে গুটিয়ে নিতে চায়। খুব বেশি হলে নিজে আমল করে কিন্তু পরিবার বা সমাজকে দূরে রাখে। কখনো বা নিজের আমলটা ও হারিয়ে ফেলে.. তারা ইবাদতে রাত্রির কিছু অংশ জাগরণ করার দরকার মনে করে না। বরং তারা শহীদ হবার পূর্বে কিছু সময় ঘুমিয়ে কাটাতে চায়। কেননা ঘুমন্ত ব্যক্তির হিসাবের কলমের মুখ আটকানো থাকে….! তারা কেবলই শহীদ হতে চায়, জান্নাতের হূর পেতে চায়। তাদের এই শহীদ হওয়ার আকাঙ্খা আমার কাছে আত্মহত্যার শামিল । হতে পারে সেটা আমার অজ্ঞতা। কিন্তু মালিক তো আর আমার মত অজ্ঞ কিংবা নিষ্ঠুর বিচারক নয়।নিশ্চয় বিচার দিবসের মালিকের বিচার করার ক্ষমতা স্বত:স্ফূর্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here