ইলম বিহীন আমল কতটুকু উপকারে আসবে…!

0
186

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু-তা’লা সর্বপ্রথম নাযিলকৃত সূরায় যে উপদেশটি দিয়েছেন সেটি ঈমাণের নয়, আমলের নয়, হিকমার নয়; ছলাত, ছিয়াম, হজ্জ্ব, যাকাত কিংবা হালাল হারামের নয়। আপনি কি জানেন প্রথম কোন উপদেশটি দেয়া হয়েছিলো?

সেটা হলো ‘ইক্বরা’ অর্থাৎ পড়। সূরা আলাক্বে আল্লাহ বলেন,
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ “পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।”
আল্লাহ মানবজাতিকে পড়ার আদেশ আগে দিয়েছেন। কেননা পড়ার পরই জানা সম্ভব কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা এবং কোনটা প্রকৃত ঈমানের দাবী রাখে। কিন্তু অধুনা এই মুসলমানরা জন্ম থেকেই ঈমানের দাবী নিয়ে আসে বলে তারা আর পড়ে সময় নষ্ট করতে চায় না। ফলে তাদের আমলই তাদেরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, তাদের অগোচরে।

এই যুগে মুমীনদের মধ্যেও দেখা যায় অসংখ্য আমল ভিন্নতা। প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ আমলে নিজের অন্তরকে পরিপুষ্ট ও পরিতৃপ্ত করে রেখেছে। এদের অনেকেই নিজের আমল নিয়ে চিন্তা করেনা কিংবা যাচাই করে সময় অপচয় করতে চায়না। ধর্ম ও সুন্নাহের প্রতি তাদের বিশ্বাস তীব্র। কিন্তু তাদের এই তীব্র বিশ্বাস অনেক সময়ই তাদেরকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়, তাদের অবান্তরে। একটা সময় তারা সুন্নাহের সাথে বিদ’আত ও তাওহীদের সাথে কুফরের সংমিশ্রণ করে নেয় এবং সেই অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে। অথচ তখনও তারা ছিল ওয়াকিফহাল।

আর এমনিভাবে উম্মাহর মধ্যে মিশ্রণ হয় তাওহীদ ও সুন্নাহের সাথে কুফর ও বিদআতের মিশ্রণ। যার নেপথ্যে রয়ে যায় ইলম অর্জণ না করেই আমল করা এবং সেটার উপরই পরিতুষ্ঠ থাকা।আল-খাতীব আল-বাগদাদি বলেছেন, ‘ইহুদিদের কাছে ইলম ছিল কিন্তু তারা ইলম অনুযায়ী আমল করত না। আর খ্রিষ্টানরা ইলম ছাড়াই আমল করত; এ কারণে প্রথম দলটি অভিশপ্ত এবং দ্বিতীয় দলটি পথভ্রষ্ট হয়েছে।’

ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেন, ‘এই উম্মাহর মাঝে যারা অজ্ঞতার কারণে পথভ্রষ্ট হয়, তারা খ্রিষ্টানদের সাথে সাদৃশ্য রাখে আর ইলমের ওপর আমল না করার কারণে আলিমদের মধ্যে থেকে যারা বিপথগামী হয়, তারা ইহুদিদের সাথে সাদৃশ্য রাখে।’ “নিশ্চয় সেই ইবাদাতে কোনো কল্যাণ নেই যার মাঝে তাফাক্কুহ (গভীর উপলব্ধি) নেই, সেই ইলমেও কোনো কল্যাণ নেই যাতে তাফহীম (বোঝা) নেই। সেই কুর’আন পড়াতেও কল্যাণ নেই যাতে তাদাব্বুর (চিন্তাভাবনা) নেই।” — আমীরুল মু’মিনিন আলী বিন আবি তালিব (রা.)[ইয়াসির আব্দুর রাহমান, মাউসুওয়াতুল আখলাক ওয়ায যুহদ ওয়ার রাকাইক:১/১১২] নিশ্চিতভাবে জেনে রাখুন, ইলমকে অন্তরে স্থায়ীভাবে গেঁথে নেয়ার উপায় হলো এর ওপর আমল করা। কোনো কিছু মুখস্থ করতে কিংবা মনে রাখতে সমস্যা হলে কোনোভাবে সেই ইলমের ওপর আমল করার উপায় খুঁজে বের করুন। ইন শা আল্লাহ, তাহলে আপনি সেটা কখনোই ভুলবেন না।

©সাহাবা নিউজ.কম





LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here