উপকারী ইলম কিভাবে অর্জণ করবেন?

0
218

উপকারী ইলম

অধুনা এই যুগে মুমীনদের মধ্যেও দেখা যায় অসংখ্য আমল ভিন্নতা। প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ আমলে নিজের অন্তরকে পরিপুষ্ট ও পরিতৃপ্ত করে রেখেছে। এদের অনেকেই নিজের আমল নিয়ে চিন্তা করেনা কিংবা যাচাই করে সময় অপচয় করতে চায়না। ধর্ম ও সুন্নাহের প্রতি তাদের বিশ্বাস তীব্র। কিন্তু তাদের এই তীব্র বিশ্বাস অনেক সময়ই তাদেরকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়, তাদের অবান্তরে। একটা সময় তারা সুন্নাহের সাথে বিদ’আত ও তাওহীদের সাথে কুফরের সংমিশ্রণ করে নেয় এবং সেই অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে। অথচ তখনও তারা ছিল ওয়াকিফহাল।

পূর্ববর্তী নেককারগণদের কেউ কেউ বলতেন, “যে রাতারাতি ইলম অর্জন করতে চায়, ইলম তাকে ত্যাগ করে। ইলম শুধুমাত্র অর্জিত হয় ধীরে ধীরে, দিন-রাতের সাধনার মধ্য দিয়ে।”(ইবনু আব্দিল বার রহ., জামিঈ বায়ানিল-ইলম, ৪৭৬) ইলম অর্জনে ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের প্রয়োজন। এই পথে অগ্রসর হতে হয় ধাপে ধাপে। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে জানতে শুরুতেই কঠিন কিতাবের দ্বারস্থ হবেন না। সহজ গ্রন্থ দিয়ে শুরু করুন। কেউ-ই রাতারাতি আলিম হয়ে ওঠে না। তাই সময় নিয়ে পড়ুন। বুঝে বুঝে সামনে আগান। না বুঝে অধিক অধ্যয়নের চেয়ে বুঝে বুঝে অল্প অধ্যয়ন অনেক উত্তম।

ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে দুটো বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ: (১) অধ্যবসায়; (২) বিনয়াবনতা।

আমরা যদি অধ্যবসায়ের পরিচয় না দেই, ইলম আমাদের কাছেও ঘেঁষবে না। অপরদিকে ইলম অর্জনে যদি আমরা বিনয়ের পরিচয় না দেই, ইলম আমাদেরকে অজ্ঞতা থেকে মুক্তি দেবে না; বরং বিভ্রান্ত করবে। অধ্যবসায় এবং বিনয়াবনতা—অস্থিরতার বিপরীত দুটো গুণ। অস্থির মন এই গুণ থেকে বঞ্চিত থাকে।ইলম অর্জনের উদাহরণ সাতার শেখার মতো। পানিতে আপনাকে নামতেই হবে। অতঃপর আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে শিখতে থাকেন, পানি আপনার বিশ্বস্ত বন্ধু হয়ে যাবে। নদী সমুদ্রের জহরতের জগত আপনার জন্য উন্মোচিত হবে। আর যদি সঠিক পদ্ধতির বাদ দিয়ে শুধু হাত পা নাড়াচাড়া করেন, সে আপনাকে ডুবিয়ে দেবে।

সবচেয়ে উত্তম ইলম

সবচেয়ে উত্তম ইলম হলো কুরআনের তাফসীর ও হাদীসের ইলাম এবং হারাম-হালাল বিষয়ক সেই ইলম, যা সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী ও অনুসরণীয় ইমামদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং তাদের থেকে প্রাপ্ত সেসব ইলম জেনেবুঝে আয়ত্ত করা ও সেগুলোর ফিকহ অর্জন করা হলো সবচেয়ে উত্তম। তাদের পরে নতুন করে যেসব ইলমের উদ্ভব হয়েছে সেগুলো অধিকহারে অর্জন করার মধ্যে তেমন কোনো মঙ্গল নেই। তবে যদি তা সালাফদের কথা বোঝার জন্য সহায়ক হয়। তবে ভিন্ন কথা।

মাম আওযায়ী রাহ, বলেছেন, ‘প্রকৃত ইলম সেটাই যা সাহাবায়ে কেরাম প্রদান করেছেন। এর বাইরে যা আছে সেটা মূলত ইলম নয়।” ইমাম ইবনুল জাওযী রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন,“মিসকীনদের মাঝে সবচাইতে বড় মিসকীন হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে তার সারাটা জীবন ব্যয় করল জ্ঞানের অন্বেষণে। কিন্তু সে তার জ্ঞান অনুযায়ী আমল করল না। ফলে সে দুনিয়ার সুখ থেকে বঞ্চিত হলো এবং আখেরাতের কল্যাণ থেকেও বঞ্চিত হলো। অতঃপর নিজের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সাক্ষ্যের বোঝা নিয়ে সে নিঃস্ব অবস্থায় হাশরের ময়দানে উপস্থিত হলো।” –[ইবনুল জাওযী, সায়দুল খাত্বিরঃ ১৫৯। আসুন সঠিকভাবে ইলম অর্জণ করে নিজের জীবনের মধ্যে আমলে পরিণত করার সর্বাত্তক চেষ্টায় লিপ্ত হই।

©সাহাবা নিউজ.কম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here