কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতে বড় ধরণের হামলার প্রস্তুতি আল-কায়দার: বিপাকে ভারত

0
551

অবশেষে পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী মুজাহিদীন গ্রুপ নামে পরিচিত “আল-কায়দা” , কাশ্মীর স্বাধীন করতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুজাহিদদের যোগ দেওয়ার জন্য ডাক দিলো।

“কাশ্মীরে চলছে মুক্তির লড়াই। এই লড়াইয়ের বার্তা ছড়িয়ে দিন এবং যোগ দিন এই লড়াইয়ে। “
এভাবেই তাদের নিজস্ব প্রচার মাধ্যম “আল ফিরদাউস মিডিয়ায়” প্রকাশ্যে কাশ্মীরে যুদ্ধের ডাক দিচ্ছে।

আল কায়েদার এই প্রচার গোয়েন্দাদেরও চোখে পড়লে, তারা বিষয়টি একেবারেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না। কেননা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, “আল কায়েদা দীর্ঘ দিন ধরেই এ রাজ্যে এবং বাংলাদেশে জঙ্গি তৈরি করার চেষ্টা করছে।
কাশ্মীরের সাম্প্রতিক অবস্থাকে সামনে রেখে তারা এখান থেকে সদস্য সংগ্রহ করে সংগঠন জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।”

আল কায়েদার এই প্রয়াস ঘিরে পশ্চিমবঙ্গসহ পুরো ভারতে আশঙ্কার কারণ রয়েছে বলে মনে করেন, ভারতীয় গোয়েন্দারা।

গত মাসেই ‘আস-সাহাব’ চ্যানেলের মাধ্যমে আল কায়েদার বর্তমান প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহারি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেই ভিডিওতে কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা এবং আধাসেনার ওপর বড়সড় হামলা চালানোর হুমকি দেন।

তার মতে, এই প্রথম কাশ্মীর প্রসঙ্গে আল কায়েদা প্রধানের কোনো মন্তব্য প্রকাশ্যে এল। সে কারণে ভারতীয় গোয়েন্দাদের ধারণা, ভারত সরকার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের এবং কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা বাতিলের অনেক আগে থেকেই আল কায়েদা কাশ্মীর নিয়ে তাদের করণীয় ঠিক করে রেখেছে। সেই পরিকল্পনা ভারত সরকারের কাশ্মীর নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর আরো গতি পেয়েছে।

শুক্রবার আল ফিরদাউস মিডিয়ায় ওই বার্তার সঙ্গেই কাশ্মীরে বিভিন্ন সময়ে চলা বিক্ষোভের ছবিও পোস্ট করা হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওই ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে দিতে। এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার দাবি, আল কায়েদা কাশ্মীরের এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে এ রাজ্যে যুবকদের উসকানি দিয়ে দলে টানতে চাইছে। এ রাজ্যে আল কায়েদা এবং তাদের কয়েকটি শাখা সংগঠনের স্লিপার সেল সক্রিয়।

গোয়েন্দাদের দাবি, ভারত ও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের আল কায়েদাপন্থী শাখা জামাতুল মুজাহিদিন সক্রিয়ভাবে সহায়তা করছে আল কায়েদাকে। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পিছনে থাকা ওই সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গে এখনো বেশ কিছু মডিউল সক্রিয়ভাবে সদস্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বাংলা ছাড়াও হিন্দি, ইংরেজি, ফারসি, উর্দু এবং আরবি ভাষায়ও কাশ্মীরে মুজাহিদদের লড়াই করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতের বাইরে থেকেও জিহাদিদের কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে এই সংগঠনটি।

সূত্র:(আনন্দ বাজার পত্রিকা)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here