কেউ আপনাকে কোন উপকার করলে প্রথমে তার জন্য যে দু’আ করবেন

0
185

আমাদের উপর বিপদ যে কোন সময় আসতে পারে। আর তখন কেউ না কেউ আমাদের পাশে থেকে আমাদের সাহায্য করে। যে ব্যক্তি কারো উপকার করে তার জন্য উত্তম দোয়া বা কল্যাণ কামনা করা প্রত্যেক মুসলমানের উচিত। অথচ এ বিষয়ে আমরা সাধারণত সতর্ক হই না।

আমরা এমন সব শব্দ বলে নিজেদের নম্র অনুভূতিকে প্রকাশ করি যে শব্দটাতে অনেক সময় শির্কে আযগার ও যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ( I’M GRATEFUL TO YOU, I’M REPENTEND TO YOU, YOUR MAJESTY) ।

আবার কিছু শব্দ ভালো হলেও (THANKS, THANKS A LOT, THANK YOU ) একজন নিয়ম মেনে চলা আদর্শ মুসলিমের উচিত হারিয়ে যাওয়া সুন্নত গুলোকে বাঁচিয়ে রেখে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা ও সওয়াব অর্জন করা।

উপকার বড় হোক আর ছোট হোক; উপকারীর জন্য দোয়া করতে ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিখিয়ে গেছেন।

📒হাদিসে আসছে:

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ مَنْ أَبْلَى بَلاَءً فَذَكَرَهُ فَقَدْ شَكَرَهُ وَإِنْ كَتَمَهُ فَقَدْ كَفَرَهُ ‏”‏ ‏.

জাবির (রাঃ) বর্ণনা করেন:
নাবী (সাল্লাল্লাহি ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
“যে ব্যক্তি অনুদান পেয়ে দানকারীর প্রশংসা করলো সে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো আর যে ব্যক্তি অনুদান গোপন করলো সে তার প্রতি অকৃতজ্ঞতা দেখালো।”
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৮১৪

তাই আমাদের কৃতঘ্ন হওয়া উচিত ও তাদের উপকারের যথার্থ প্রশংসা করা উচিত। তবে অতিরিক্ত প্রশংসা নয়। কারণ, “

📕রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন অতিমাত্রায় প্রশংসাকারীদের মুখে মাটি ছুঁড়ে মারার জন্য।”
(সহীহ মুসলিম- ৭৩৯৫, ইফা, ৭২৩৩)

📗এছাড়াও উপকারীর উপকারের প্রতিদানে দু’আ করতে বলা হয়েছে ,

وَعَنْ أُسَامَةَ بنِ زَيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : «مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ، فَقَالَ لِفاعِلهِ: جَزَاكَ اللهُ خَيراً، فَقَدْ أَبْلَغَ فِي الثَّنَاءِ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

উসামাহ ইবনে যায়েদ (রাঃ)বর্ণনা করেন:
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

“যে ব্যক্তির জন্য কোন উপকার করা হল এবং সে উপকারকারীকে ‘জাযাকাল্লাহু খায়রান’ (অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দেন) বলে দু’আ দিল, সে নিঃসন্দেহে (উপকারীর) পূর্ণাঙ্গরূপে প্রশংসা করল।”
জামেয়া তিরমীযি (২০৩৫); রিয়াদুস স্বলেহীন ১৫০৪

⏩সুতরাং যে আপনাকে ছোট কিংবা বড় যে কোন উপকারই করে তাকে আপনি বলুন,

, ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ

উচ্চারণ : ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’
অর্থ : আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

প্রশ্ন হল, এই বাক্যটির অর্থ কি?
আসুন জেনে নেই বাক্যটির অর্থ।
এর বেশ সুন্দর কয়েকটি অর্থ রয়েছে।
.
১। ﺧﻴﺮ ( খাইর) শব্দটি সে সমস্ত বিষয় বুঝায় যা আল্লাহর নিকট প্রিয়। তাই “খাইর” শব্দের মাধ্যমে আপনার জন্য সবরকমের কল্যাণ কামনা করা হল।
.
২। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে জান্নাত এবং জান্নাতে তাঁর দিদার দ্বারা সৌভাগ্যবান করুন।
.
৩। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে কাফিরদের স্থান জাহান্নাম থেকে হেফাজত করুন।
.
৪। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে সিরাতে মুস্তাক্বিম তথা সরল পথে পরিচালিত করেন।
.
৫। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার উপর কোন অভিশপ্ত শয়তানকে চাপিয়ে না দেন।
.
৬। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার রিজিকের মধ্যে বরকত দান করেন।
.
৭। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ শেষ দিবস পর্যন্ত আল্লাহ যেন আপনাকে মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী করেন।
.
৮। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী করেন।
.
৯। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে নেক সন্তান দান করুন।
.
১০। “জাযাকাল্লাহু খাইরান” আল্লাহ আপনাকে সবরকম কল্যাণ দান করুন।
.
.
এর আরো অসংখ্য অর্থ রয়েছে। কেননা খাইর ( ﺧﻴﺮ ) আল্লাহর নিকট অগণিত। যা গণনা করা অসম্ভব। তবে আমরা বাক্যটির শাব্দিক অর্থ করি, “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান এখন আপনার জন্য সেই উত্তম প্রতিদান কি হবে সেটা আল্লাহ্ ই সবচেয়ে ভালো জানেন।

✳ এবার আসি, যদি আপনি কারো উপকার করেন আর তিনি আপনাকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে বলেন,
ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ
‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’

তবে তাঁর উদ্দেশ্যে আপনি বলবেন-
[ওয়া আনতুম ফা’-জাযাকুমু-আল্লাহু খাইরান] অর্থাৎ (আল্লাহ আপনাকেও উত্তম প্রতিদান দিন।)

📕যখন উছাইদ ইবনে হাদাইর (রা), রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামকে বলেন,

“হে আল্লাহর রাসূল, জাযাকাল্লাহু খায়রান!” তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম বলেন, “ওয়া আনতুম ফা-জাযাকুমু-আল্লাহু খায়রান (ﻭَﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻓَﺠَﺰَﺍﻛُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ)”
(অর্থঃ তোমাকেও আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন)
[শাইখ আলবানী আল-ছহীহার ৩০৯৬ নং হাদিছে একে ছহীহ বলেছেন, আল-তা’লিকাতুল হিসান আল ছহীহ ইবনে হিব্বান ৬২৩১]

চিন্তা করে দেখুন, কত সুন্দর শিক্ষা আমাদের ছিল, কিন্তু আমরা শুধু অবহেলা করেছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের পূর্ব-পুরুষরাও শেখাইনি আমরাও শিখিনি, বরং শিখতে চাইও নি!

🚨সতর্ককতা-

🔘ছহীহ হাদিছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যেখানে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম বলেন “ওয়া ইয়াকুম (ﻭﺇﻳﺎﻛﻢ)”
(অর্থঃ তোমার প্রতিও দয়া হোক) বলে জবাব দিয়েছেন। কাজেই সঠিক সুন্নাহর অনুসরণ করাই উত্তম—যার জবাব হলোঃ
“ওয়া আনতুম ফা-জাযাকুমু-আল্লাহু খাইরান (ﻭَﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻓَﺠَﺰَﺍﻛُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ)”

🔘আমরা কখনো শুধুমাত্র ‘জাযাকাল্লাহু’ বলবো না। বরং ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’ বলবো। কারণ ‘জাযাকাল্লাহু’ দ্বারা প্রতিদান ভালোও হতে পারে আবার মন্দও হতে পারে। তাই ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’ বলবো।

আল্লাহ তা’লা মুসলিম উম্মাহকে উপকারীর উপকারে সুন্নাতি এ দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here