কোটা বনাম বইপোকা

0
102

কোঠা সংস্কার আন্দোলনের বিরুদ্ধে জাতির উঁচুস্তরের বিবেকবান ছাত্রদের লক্ষ্য করে বলা “এই রাজাকারের বাচ্চাদের আমরা অবশ্যই দেখে নিবো”। কৃষিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ‘মতিয়া চৌধুরীর’ এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদে…. প্রথমে ‘মুতিয়ার’ কিছু কথা নিয়ে আসলাম,যে কথা গুলো দিয়ে বোকাদের ধোকা দিচ্ছে: “আর কোঠা নিয়ে আমি একটা কথা পরিষ্কার বলতে চাই, আমরা মফস্বল এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়ে আসি। ঢাকায় যে ছেলে বা মেয়েটি পড়াশুনা করে একটু অভিজাত স্কুলে তাদের শিক্ষার মান আর মফস্বলের স্কুলের শিক্ষার মান এক নয়। মেধার বিচার সমপর্যায়ে এনে সম-সুযোগ দিয়ে তারপর মেধার বিচার করেন..আমার এলাকায় আদিবাসী আছে আমার এলাকায় বিভিন্ন ধর্মালম্বী লোক আছে। আর আমাদের প্রধান সমস্যাটা কোথায়? মুক্তিযোদ্ধা কোঠায়….!?যারা জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, তাদের ছেলেমেয়ে বা বংশ তারা সুযোগ পাবে না…!?ঐ রাজাকারের বাচ্চারা সুযোগ পাবে?তাদের জন্য ঐ মুক্তিযুদ্ধ কোঠা সংকোচিত করতে হবে……? মফস্বলের কলিমদ্দি, সলিমদ্দির ছেলেরা যেন উঠতে না পারে, রাখো তাকে এক জায়গায়, যেন একটা স্তরের উপর মাথা তুলে না দাঁড়ায়।⏩সবশেষে তিনি বলেন:পরিষ্কার বলতে চাই মুক্তিযুদ্ধ করেছি, মুক্তিযুদ্ধ চলবে আর এই রাজাকারের বাচ্চাদের আমরা অবশ্যই দেখে নিবো….”

মতিয়া যে একজন আদর্শবান স্বার্থআদায়কারী রাজনীতিবীদ, তা তার প্রথমে কথাতেই বুঝা গেছে যেখানে সে রোঠা নিয়ে কথা বলার পূর্বেই বলে আসলো, আমরা নির্বাচিত হয়ে আসি মফস্বল থেকে। তারপর সে বুঝাতে চাইলো যে, ঢাকার ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষার সুবিধা পায় আর মফস্বলেরা তুলনামূলক খুবই কম শিক্ষার সুযোগ ও সুবিধা পেয়ে থাকে। তাই মেধার বিচার করতে গেলে দুজনকে সমান সুযোগ দিয়ে বিচার করতে হবে। কথাটি শুনতে খুবই বিবেকাচিত মনে হবে, কিন্তু এর ভিতরের অদৃশ্য বিষটি এখনি দেখতে পারবেন।তার কথায় বুঝা গেল কোঠা ব্যবস্থা কেবল মফস্বলের ছেলে-মেয়েদের জন্য, যাতে কলিমদ্দি আর সলিমদ্দির ছেলে হয়েও তারা উচ্চ শিক্ষা নিতে পারে।

আমি একমত যে ঢাকার বা শহরের পড়াশুনার মান অপেক্ষা গ্রামের শিক্ষার সুযোগ ও মান দুটোই কম। কিন্তু এই কোঠা কোন ভাবেই গ্রামের ছেলেমেয়েদের উচু শিক্ষায় নিয়ে যেতে পারছেনা বরং বাঁধা দিচ্ছে। কিভাব!?যখন একটি শহুরের ছাত্র অনেক সুযোগ পেয়ে ভালমান সম্মত শিক্ষা পাচ্ছে, গ্রামের ছেলেটি পরিবারের দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার আদর্শ মান না পেয়ে নিজ চর্চায় রাত্রি জেগে নিজেকে গড়ে তুলে। শহুরের অধিক সুযোগ প্রাপ্ত ছেলিটি যদি মুক্তিযুদ্ধ কোঠা না পায় আর গ্রামের ছেলে যগি পায় তাহলে গ্রামের ছেলিটির জন্য পসিটিভ। কিন্তু গ্রামের অদম্য নোংরা পরিবেশে নিজ চর্চায় বড় হয়া ছেলেটি আর আদুরের বলাশ বহুল শহুরের ছেলিটি র যদি উভয়ের মুক্তিযুদ্ধ কোঠা থাকে তখন কি মফস্বলের ছেলেটার সাথে কিভাবে ন্যায় বিচার হয়…. ? মুক্তিযুদ্ধ কোঠার পরিসংখ্যান দেখলে বুঝা যায় অধিকাংশ কোঠার দাবিদার হলো আওয়ামীলিগের সদস্যরা, তারা অধিকাংশরাই মন্ত্রীপদে বসে আসে। এমন মানুষও মুক্তিযুদ্ধা বলে নিজেকে দাবি করতে দেখেছি যার জন্ম ১৯৬৬ কে কারো কারো জন্ম তো ১৯৭০ সালে হলে পিছিয়ে দিয়ে তা ১৯৬০ সালের পূর্বে নিয়ে গেছে।

আপনি মুক্তিযুদ্ধ কোঠা দিয়েছেন কি শুধু গ্রামের ছাত্রদের ? না কখনোই না।আপনি নিজেও যখন মন্ত্রী হয়েছেন, নিজেকে মুক্তিযুদ্ধা কোঠায় দাবিদার বানিয়ে রেখেছেন, নিজের নাতি ও পুতিদের জন্য।মফস্বলের ছাত্ররা আজ আপনাদের চিনেছে আপনারা যে কিভাবে রক্ত চুষেন ব্যাথা না দিয়ে। আপনি তো মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধা , যখন আপনার সন্তান বা নাতি অজস্র সুবিধা পাওয়ার পর, গ্রামের ঐ সুবিধা বঞ্চিত ছাত্রটির সাথে কমপিটিশন করে তখন কে জিতবে?পড়ে পড়ে মুখ দিয়ে ফেনা বের করা মফস্বলের ছাত্রটি? নাকি আপনার নাতি? আরে মফস্বলের ছাত্রটির যদি আপনার মত মুক্তিযুদ্ধা সার্টিফিকেট নিয়ে থাকে তবুও তো সে ব্যর্থই। যথার্থ বিচার হলো কিভাবে? যদি গ্রামের ছাত্রদের জন্য এতই মায়া থাকে তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কোঠা বন্ধ করে ‘গ্রাম্য কোঠা’ দিন। এতে করে গ্রামের ছাত্ররা কিছুটা হলেও সমানে সমানে হবে। কিন্তু আপনারা রাজনীতিবিদরা সেটা করবেন না, কেন জানেন? কারণ এতে করে আপনি , আপনার সন্তান , আপনার নাতি পুতি রা বঞ্চিত হবে । কারণ আপনি কখনোই তাদের গ্রাম্য কোঠা পাওয়ার জন্য গ্রামের শিক্ষা দিবেন না। সুতরাং মফস্বলের নাম দিয়ে নিজেদের স্বার্থ আদায় করার যে স্বার্থলোভী চালাকি করছেন তা বন্ধ করুণ।

তারপরও যদি মুক্তিযুদ্ধা সন্তানের জন্য বেশি দরদ লাগে, তাহলে আলাদা ভার্সিটি খুলে দিন, জব সেক্টরে প্রতিযোগিতায় তাদেরকে কোঠা না দিয়ে ,জব দেয়ার পর তাদের স্যালারি টা অন্যান্যদের তুলনায় এক্সস্ট্রা করে দিন “মুক্তিযুদ্ধা স্যালারি’ নামে। দেখি মুক্তিযুদ্ধার প্রতি দরদ কত…আর যাদেরকে আপনি রাজাকারের সন্তান বলছেন, মনে রাখবেন তাদের বাবারাই যুদ্ধ করেছে, তারাই ভোট দিয়ে আপনার সরকারকে ও আপনাকে নির্বাচিত তাদের অধিকাংশরাই শাহবাগে চিল্লাই ছিলো। দেশের ওযুত কোটি ছাত্ররা যদি রাজাকারের সন্তানই হতো তাহলে আপনার মতো রক্ত পিপাসুকে সংসদে কথা বলার সুযোগ দিতো না। মনে রাখবেন , ছাত্র আন্দোলন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এটা কেবলই ছাত্রদের ন্যায্য অধিকার আন্দোলন, কোঠা সংস্কারের আন্দোলন চলছে,,,চলবে,,,,,,,,, প্রয়োজনে দেশের সকল ছাত্র আগামী ১০০ বছর জেলে থাকবে, প্রয়োজনে প্রয়োজনে সব সহজ্র প্রাণ ধূলায় পতিত হবে, তবু ও কোঠা সংস্কার হবেই হবে… ইনশা-আল্লাহ্।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here