গুরুর চামড়া গরুর গোস্তের চেয়েও সু-স্বাদু: জানুন কিভাবে!

0
131

বেশ কয়েক বছর ধরেই নোয়াখালি ও পটুয়াখালিসহ কিছু কিছু এলাকায় গরুর মাথার চামড়া রান্না করে খাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গরুর পায়া (পা) এর সাথে মাথার চামড়াও রান্না করা হয়। মাথার চামড়া মোটা হওয়ায় এটির ভিন্ন চাহিদা আছে।

তবে প্রতিবছর চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় গরুর চামড়াও এখন খাবার তালিকায় যুক্ত করছেন কেউ কেউ। আর যারা একবার চামড়া খেয়েছেন স্বাদের প্রশংসা করেছেন তারা।

রান্নার প্রক্রিয়া

চামড়ার রান্না প্রক্রিয়াও অনেকটা সহজ। প্রথমেই চামড়া এক থেকে দেড় ফিট সাইজের ছোট ছোট টুকরা করে নিতে হবে। এরপর মেঝেতে কোনো কিছুর উপর রেখে চামড়ার উপরের অংশে গরম পানি ঢেলে সাথে সাথে স্ট্রিলের চামুচ দিয়ে আচড় দিলে উপরের পশমগুলো উঠে যাবে। লোম উঠে যাবার পর চামড়ার নিচের অংশ পরিষ্কার করে ছোট ছোট টুকরা করতে হবে। ভালোভাবে ধুয়ে গরম পানিতে সিদ্ধ করতে হবে। সিদ্ধ হলে, প্রয়োজনীয় মশলা দিয়ে মাংসের মত করে রান্না করতে হয়।

একটি ভাল মানের গরুর চামড়ায় ১০ থেকে ১৫ কেজি কিংবা এর থেকে বেশি পরিমাণ মাংস পাওয়া যায়। এছাড়া চামড়া দিয়ে হালিম রান্নার স্বাদটাই ভিন্ন। আর গরম চামড়া দিয়ে  ভাত ও রুটি খাওয়া আরো মজাদার।

সারা বছর যে দামে চামড়া বিক্রি হয় কোরবানি ঈদের সময় তার থেকেও চামড়ার দাম কমে যায়। ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী কোরবানির পশুর চামড়ার টাকা দুস্থ ও গরিবদের মাঝে বিতরণ করা হয়ে থাকে। তবে চামড়ার দাম কমায় গরিবরাও আর্থিক সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়ায় প্রতিবাদ স্বরূপ চামড়া ফেলে দিচ্ছেন কিংবা মাটিতে পুতে ফেলছেন। তবে চামড়া নষ্ট না করে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে, কোরবানির গরুর চামড়া খাওয়াকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ।

আর যদি এই পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে আগামীতে চামড়ার দাম বাড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here