ছাত্রজীবনে ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ব যেভাবে পড়াশুনার ভবিষ্যৎ ধ্বংশ করে

0
248

কাকতালীয় ভাবে কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। কাল্পনিক দৃষ্টিকোন হতে গল্প টি লেখা হলো।

কাল্পনিক ২ টি নাম ব্যবহার করা হলো করো নামের সাথে মিলে গেলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে দুঃখিত ।

পিওর ভালোবাসার আড়ালে (পার্টঃ১)

সময় টা ২০১০ সালের। ঢাকার কোন এক নাম করা কলেজে সেতু আর সাজিদ পড়াশোনা করে। সাজিদ বনিয়াদী ঘড়ের সন্তান। সে পড়াশোনায় তেমন ভালো না । সারাদিন বন্ধু বান্ধব নিয়ে বিভিন্ন পার্টি,গান বাজনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। অন্যদিকে, সেতু এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।সেতু দেখতে খুবই সুন্দরী ছিল। পড়াশোনায় অনেক মনোযোগী বলে কলেজের সবাই তাকে খুবই পছন্দ করে। স্যারেরা সেতুকে নিয়ে খুবই আশাবাদী যে সে খুব ভালো রেজাল্ট করবে।

সেতু সব সময় ই কলেজের সকল পরিক্ষায় খুব ভালো নম্বর পেয়ে পাশ করতো,সে কখনো ক্লাশ ফাঁকি দিত না। অন্যদিকে, সাজিদ প্রায়ই ক্লাশে অনুপস্থিত থাকতো,পরিক্ষা গুলোতে তেমন ভালো করতো না,সাজিদ এর জন্য প্রায়ই তার গার্ডিয়ানের জবাবদিহি করতে হতো কলেজে। পরিবারের একমাত্র সন্তান বলে তাকে তেমন ভাবে শাসন করা হতো না। এভাবে কলেজ লাইফের ১ টা বছর কেটে যায়।

একদিন সেতু বাসা হতে কলেজে আসার পথে তার রিক্সার চাকা নষ্ট হয়ে যায়,পথে তেমন আর কোন যানবাহন পাচ্ছিলো না। ঐ সময় ই সেই পথে সাজিদ কলেজে যাচ্ছিলো তার বাইকে করে। পথে সেতুকে দেখে তার বাইকে করে কলেজে যাওয়ার কথা বলে, প্রথমে সেতু রাজি হননি, পরে কোন উপায় না পেয়ে সে সাজিদ এর বাইকে করে কলেজে আসে।

এদিকে পুরো কলেজে রটে যায় যে সাজিদ আর সেতু প্রেম করে বেড়াচ্ছে। অথচ সেতু এ বিষয় টা জানে ও না।সাজিদ এর বন্ধুরা সাজিদ কে কি ব্যপার জিজ্ঞেস করলে সে বন্ধুদের কাছে বড় হবার জন্য মিথ্যা বলা শুরু করে যে তারা দুজম দুজনকে আরো আগে হতেই পছন্দ করে।

কোন একদিন এই প্রেমের কথাটা তার কানে ও পৌছায়। এতে সেতু খুবই কষ্ট পায়,আর সাজিদ কে দেখা করতে বলে। সাজিদ বিষয় টা বুঝতে পেরে সে তখনই সেতুকে প্রপোজ করে, আর প্রতিজ্ঞা করে যে সে ভালো হয়ে যাবে।সেতু পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে পড়ে,সে সাজিদকে বলে যে সে কলেজে পড়াশোনা করতে এসেছে,আর এসব বিষয়ে সে কখনো ভাবে নি। এভাবে চলতে থাকলো কিছু দিন। সাজিদ প্রায় ই সেতুকে প্রপোজ করতো,তার সামনে ভালো সাজার ভান করত,প্রতিদিন ক্লাশ করত,আগের সব খারাপ অভ্যাস গুলো সেরে দিতে আরম্ভ করে।

তাদের টেস্ট পরিক্ষা এসে পড়ে। সেতু এ সব কথা মাথা থেকে জেরে ফেলে পরিক্ষার জন্য পুরোধমে প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। টেস্ট এর রেজাল্ট এ দেখা গেলো সেতু আবার ও প্রথম কিন্তু সবাইকে অবাক করে সাজিদ সেরা ১০ এ জায়গা করে নেয় এতে সেতু ও কিছুটা হলেও অবাক হয়। কোনএক বৃহস্পতিবার এ কলেজ ছুটি হলে সাজিদ সেতুকে বলে সেতু যেনো সাজিদ কে পড়াশোনায় সাহায্য করে। সেতুও কিছু না ভেবে তার সকল নোট গুলো সাজিদ কে দিতো,সাজিদ ও আস্তে আস্তে ভালো ছাত্র হয়ে উঠছে। সেতু একটা সময় দেখলো সে সাজিদের প্রতি দুর্বল হতে লাগলো,সাজিদের এই আমূল পরিবর্তন তার নিকট ভালো লাগে। সাজিদ লাস্ট যেদিন সেতুকে আবার ও প্রপোজ করে সেদিন সেতু আর তাকে না করে নি।

সেতু আর সাজিদ প্রায় প্রতিদিন ই ঘুরাঘুরি করতে বের হতো,এভাবে অনেক দিন কেটে যায়। এদিকে তাদের মডেল টেস্ট শুরু হয়ে যায়,মডেল টেস্ট এর রেজাল্ট দেখে সবাই খুবই অবাক হয়ে যায়,যেই সেতুকে নিয়ে সবাই এতো আশাবাদী ছিলো সেই কিনা সেরা ১০ এ ও নাই।এভাবে তাদের এইচ,এস,সি পরিক্ষা শেষ হয় । সাজিদ সবাইকে অবাক করে পরিক্ষায় A+ পায়, অন্য দিকে সেতু Aপেয়ে উত্তীর্ন হয় তার রেজাল্ট সবাইকে অবাক করে। সেতু প্রায় ই এর জন্য কান্না করতো।

সাজিদ আর সেতু এখন আলাদাভাবে ২ টা কোচিং সেন্টারে ভার্সিটির জন্য কোচিং করতেছে। প্রথম দিকে সাজিদ সেতুকে প্রায় প্রতি দিন ই ফোন করতো,দেখা করতো,সে সেতুকে বুঝাতো সেতু যেনো মন খারাপ না করে,সে সেতুকে ছাড়া থাকতে পারবে না,সে সেতুকে এ কথা ও বলতো যদি সেতু ভার্সিটিতে চান্স পেয়ে যায় যেনো সাজিদ কে কখনো না ভুলে । তাহলে সে বাঁচবে না।

ভার্সিটি পরিক্ষায় দেখা যায় সেতু কোন ভার্সিটিতে টিকে নি, আর টিকবে ই বা কেমন করে,সেতু তো সবসময়ই সাজিদ এর কথা ভাবতো। কিন্তু সাজিদ একটা পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পেয়ে যায়। এতে সাজিদ সেতুকে অনেক বুঝায় যেনো সে আর মন খারাপ না করে,সে তো আছে তা পাশে ই।

এভাবেই চলছিল কিছু দিন, সেতুর কাছে এখন মনে হয় সাজিদ কেমন যানি হয়ে যাচ্ছে, আগের মত ফোন করে না,দেখা করে ও না। অন্যদিকে তার কথা বলার স্টাইল ও কেমন জানি চেঞ্জ হয়ে গেছে, সব সময়ই খারাপ ব্যবহার করে। সেতু প্রায় ই ভাবে এটা কি সেই সাজিদ যে তাকে পাবার জন্য সব ছেরে দিয়েছিল? তার সাথে কথা বলার জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছিলো??

এভাবে সাজিদ একটা সময় সেতুকে বলে দেয় যে তার সাথে নাকি সাজিদ এর চলে না।

সেতু তখন বুঝতে পারে যে সে জীবনে কত ক্ষতি হয়েছে, এখন সেতুও জানে তার আর সেই ক্ষতি পুরন হবার নয়।সেতু তাকে এটুকু বলেছিলো যে,সাজিদ জানো?? আজ আমার কোথায় থাকার কথা ছিলো,যেই তুমি কখনো ক্লাশে পড়া পারতে না,কখনাে পাশ ও করতে পারতে না,আমার নোট গুলো ব্যবহার করা ছারা তোমার উপায় ছিলো না?? সেই তুমি আজ আমায় প্রত্যাক্ষান করলে।ঠিক আছে ভালো থেকো তোমাকে বাধা দিবো না।।

সেতু তাকে কিন্তু না বলার কারন ছিলো, সেতু জানতে পেরেছিলো যে, সাজিদ কোন এক মেয়ে কে ভালোবাসে।।


বন্ধুরা গল্পটা কেমন হলো অবশ্যই জানাবেন। আপনাদের ভালো লাগলে এর দ্বিতীয় পার্ট বের করবো সেতুর পরিনতি কি হয়েছিলো বা সাজিদ ই বা কি করে ছিলো তা নিয়ে আসবো।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here