তাক্বওয়াশীলদের ‘আলী বানাতের’ জীবন থেকে যা শিখে রাখা উচিত।

0
252

প্রাণচঞ্চল দেহে যৌবন এসে যখনই ঠুঁ মারে , তখনই আমাদের ভিতরে এক অনুভূতি লায়ায়িত হয়ে উঠে, আর তার নাম হলো বিলাসিতা (Luxury)। লাক্সারিয়াস জীবন চায়না এমন মানুষ পৃথিবীর ৭৫০ কোটির মধ্যে ৭ জন মানুষ আছে কিনা আমার জানা নেই। ….. তবে ১জনের দেখা আমি পেয়েছি…! মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলেটি কিংবা মাদ্রাসার প্রিন্সিপালটি ও চায় তাঁর পাঞ্জাবীর কাপড় টা ইন্ডিয়ান বা দেশের বাহিরের হোক। সে ও চায় তাঁর পাঞ্জাবি টা চকচকে আয়রনযুক্ত হৌক। কোথাও একটু ফুটে গেলে সেই দামী কাপড় টা ও ওয়্যারড্রোবের পুরোনো স্টেপে থাকে। আমরা অনেকেই জীবনের মূল্যবান যৌবনটাকে কাটিয়ে দেই অর্থোপার্জনে । আমরা নিজেকে সান্ত্বনা দেই এই বলে যে , ৩৫-৪০ বছর বয়স পর্যন্ত উপার্জন করবো আর বাকী সময়টা ইবাদতে কাটাবো। আর আমরা জীবনটা কে বিলাসবহুল করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাই। ফলে ইবাদতের অবস্থা এতই শোচনীয় হয় যে, আমরা বুঝতেই পারিনা, আমরা যে ক্ষণস্থায়ী প্রাণ পাখী।

বাবা-মা,ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব ও আত্নীয়স্বজন থেকে কেবল দুনিয়া গঠনেরই উপদেশ,পরামর্শ ও মানসিক চাপ আসে। নগন্য আকারে আমরা পরকালকে ভাবি..ভাবনায় মনে হয় পরকালটা অপশনাল…হে যুবক, কত টাকার মালিক হতে চান আপনি? কোন ব্রেন্ডের জামা, জুতা, চশমা ও গাড়ী ব্যবহার করতে চান? লুইসবাটন, ফেরারী, বিএমডাব্লিউ তাইতো? না হয় তার চেয়ে দামী কিছু…..!? আপনি না হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা ধনী হলেন তরুনদের মধ্যে? না হয় হলেন আপনি অনেক সুন্দর ‘এইট পেকের’ অধিকারী..!না হয় প্রতিদিন আপনি আপনার জীবনে ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন…!!না হয় তাঁর চেয়ে বেশি….

কিন্তু এসব কিছুই কি আপনার /আমার জীবন কে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে? জাহান্নামের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে পারবে? কি হবে এসবের….!? যদি জীবনের সমাপ্তি আলী বানাতের মতো অচীরেই হয়ে যায়। আপনি কি তার চেয়ে বেশি বিলাসবহুল হওয়ার কথা ভাবছেন, তার চেয়ে অল্প সময়ে…? কি হবে তারপর..! আলী বানাত হয়তো জানতে পেরেছিলো যে তার মরনব্যাধি ক্যান্সার তাকে ৭ মাসের মধ্যেই নিয়ে যাবে। সে অন্ত্যত এতটুকু আশা রাখতো যে সে ৭ মাস সময় বাঁচবে। কিন্তু আমি আর আপনি তো এতটুকু ও আশা করতে পারিনা। এমনকি ৭ মিনিটের ও না। তাহলে আপনি আর আমি কেনো পরিবর্তণ হচ্ছি না,কেনো দুনিয়ার মৌহ কাটছেনা? আমাদের তো আলী বানাতের চেয়ে ও বেশি সিরিয়াস হয়া উচিত। তাই নয় কি?

আমরা কেবল আলী বানাতের বাস্তবতা দেখে চোখকে অশ্রুসিক্তই করতে পারি, কিন্তু নিজেকে সংশোধন করে , বিলাসীতার মৌহ কাটিয়ে আল্লাহর সাথে দেখা করার সন্তোষজনক প্রস্তুতি নিতে পারিনা।………. কিন্তু কে…ন? ‘ক্যান্সার’ হয়তো আলী বানাতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা উপহার ছিলো,আর আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্তমানযুগে শিক্ষা নেয়ার জন্য উপহার হিসেবে ছিলো–“আলী বানাত”।

চলুন নিজে এই মুহূর্ত থেকেই দুনিয়ার মৌহ কাটিয়ে পাল্টিয়ে যাই। এই রমযানে যা আছে তাই দান করি, মাঝ রাতে অধিক পরিমানে ক্রন্দনরত হই। হয়তো আলী বানিতের মতো এত টাকা দান করতে পারবো না, কিন্তু তাক্বওয়া তো তৈরী করতে পারবো…?ইনশা-আল্লাহ্….তাক্বওয়া মানুষের বাহ্যিকতায় নয়..আত্-তাক্বওয়া হা-হুনা, আত্-তাক্বওয়া হা-হুনা……..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here