ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও তাবিজ ব্যবহার করলে নামাজ কবুল হবে কি?

0
166
তাবিজ

উত্তর:

সমস্ত প্রশংসা সেই সত্বার, যিঁনি আদম সন্তানকে সৃষ্টি করেছেন অতি উত্তম আকৃতিতে কেবল তার আনুগত্য করার জন্য।

কেউ যখন তাবিজ ব্যবহার করে, তাদের অধিকাংশই তখন তাবিজের উপর নির্ভলশীল হয়ে পড়ে। আর এটা তারা করে spiritual therapy (আত্মিক শান্তি) এর জন্য। তারা ভাবে তাবিজই তাদের বালা-মসিব্বদ থেকে দূর করবে। আল্লাহর উপর তাদের ভরসা ও আস্থা কমে যায়। এক্ষেত্রে যেমন তারা কুফরি করে। পাশাপাশি ছোট শির্ক।

📖অথচ আল্লাহ্ সুবহানাহু-তা’লা বলেন:
“এ সত্ত্বেও যদি তারা বিমুখ হয়ে থাকে,
তবে বলে দাও, আল্লাহই আমার (মুমিনদের)জন্য যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত আর কারো বন্দেগী নেই। আমি তাঁরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের অধিপতি।” (সূরা তওবা:১২৯)

✔অর্থাৎ মুমিনরা কেবল আল্লাহর উপর ই বিশ্বাস রাখে।

📙ঈসা ইবনু আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লাইলা (রহঃ) বর্ণনা করেন:

তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনু উকাইম আবূ মা’বাদ আল-জুহানীর অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেখতে গেলাম। তিনি বিষাক্তি ফোঁড়ায় আক্রান্ত ছিলেন।

আমি বললাম, কিছু তাবিজ-তুমার ঝুলিয়ে রাখছেন কেন? তিনি বললেন, মৃত্যু তো এর চেয়েও নিকটে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
যে লোক কোনকিছু ঝুলিয়ে রাখে (তাবিজ-তুমার) তাকে তাঁর উপরই সোপর্দ (ছেড়ে দেয়া ) হয়।

📍টীকা: তখন আল্লাহ্ তার কোন দায়িত্ব নেন না।
জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২০৭২

📙এছাড়া ও রাসূল (স:) বলেছেন…
‘যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলালো সে শির্ক করলো।’ (মুসনাদে আহম্মদ ১৬৭৭১, সিলসিলা সহীহ হা:৪৯২)

📖আর আল্লাহ্ সুবহানাহু-তা’লা আরো বলেন:
“আর যারা শিরক থেকে বেঁচে থাকে, আল্লাহ তাদেরকে সাফল্যের সাথে মুক্তি দেবেন, তাদেরকে অনিষ্ট স্পর্শ করবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না।” (সূরা জুম্মার:৬১)

তাবিজ আমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি কিছুই করতে পারে না। সব কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।


📖আল্লাহ সুবহানাহু-তা’লা বলেন:

আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোন কষ্ট দেন,
তবে তিনি ব্যতীত তা অপসারণকারী কেউ নেই। পক্ষান্তরে যদি তোমার মঙ্গল করেন, তবে তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
সূরা আন-আনম:১৭
সূরা ইউনূস ১০৭, সূরা জুম্মা ৩৮


🚫সুতরাং তাবিজ এখানে কিছুই করতে পারবে না। তবুও কি তারা তাবিজের উপর নির্ভর করবেন..!?

📚একবার রাসূল (স:) এর কাছে ১০জন ব্যক্তি এলেন ইসলাম গ্রহনের জন্য , তখন রাসূল (স:) ৯জনকে কালিমা পড়ালেন, আর ১জনকে পড়ালেন না। তখন সাহাবীরা কারণ জানতে চাইলো, তখন রাসূল (স:) আমি তো জানতাম না, তবে জীব্রাইল আমাকে নিষেধ করেছে। কারন তার কাছে তাবিজ। পরবর্তী তে তাবিজ ছিড়ে ফেলে রাসূল কালিমা পড়ালেন।
🔜দেখুন মুসনাদে আহম্মদ খন্ড৪, ১৫৬পৃষ্ঠা

📘সাঈদ বিন জুবাইর থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,

من قطع تميمة من إنسان كان كعدل رقبة (رواه وكيع)

‘‘যে ব্যক্তি কোন মানুষের তাবিজ- কবজ ছিড়ে ফেলবে বা কেটে ফেলবে সে ব্যক্তি একটি গোলাম আযাদ করার মত কাজ করলো।’’ (ওয়াকী)

🎯তারপর ও যারা জেনে শুনে তাবিজ ব্যবহার করে তারা মুসলিম হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা।

আর যে মুসলিম হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা, সে কেমন ধার্মিক, তার হজ্জ্ব , নামায, রোযার অবস্থা কি হবে আল্লাহ্ই ভাল জানেন..!


উপদেশ:

যে সব মুসলমান ব্যক্তি বা ইমামরা তাবিজ ব্যবহার করে, তাদেরকে আমাদের জানাতে হবে কুরআন , হাদিস আর হিক্বমা দিয়ে। রাসূলের হাদিস মানা না মানা একান্তই তাদের ব্যাপার। যদি কোন ইমাম কে জানানোর পর ও তাবিজ ব্যবহার করে, তাহলে তার পিছনে নামায হবে না, কারণ মুশরিকদের পিছনে নামায হয়না।

ইব্রাহিম নখয়ি রহ. বলেন, “আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের সাথীগণ কুরআন ও গায়রে কুরআন সর্বপ্রকার তাবিজ অপছন্দ করতেন, যেমন আলকামা, আসওয়াদ, আবু ওয়ায়েল, মাসরুক ও রাবি বিন খায়সাম প্রমুখ তাবেয়িগণ”।
[ফতহুল মজিদ]

শিরক ও পাপের পথ বন্ধ করার স্বার্থে সকল তাবিজের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা জরুরি। কুরআনের তাবিজ শিরকী তাবিজের পথ উন্মুক্ত করে।

কুরআন-হাদিসের তাবিজ সম্পর্কে আলেমগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন পূর্বোক্ত দলিলের ভিত্তিতে একদল আলেম বলেন, কুরআন গায়রে কুরআন সর্বপ্রকারতাবিজ শিরক।

কতক আলেম বলেন, কুরআন হাদিসের তাবিজ বৈধ। তারা দলিল হিসেবে আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ব্যক্তিগত আমল পেশ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন ঘুমে ঘাবড়ে যায়, তার বলা উচিত:

«أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْهَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ، فَإِنَّهَا لَنْ تَضُرَّهُ»

“আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহ দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তাঁর গজব ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে এবং শয়তানসমূহের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে”।[১]

🔹ইমাম তিরমিযি রহ. বলেন: “হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর সম্পর্কে আছে, তিনি তার সাবালক বাচ্চাদের দোয়াটি শিক্ষা দিতেন, আর যারা সাবালিগ হয়নি কাগজে লিখে তাদের গলায় দোয়াটি ঝুলিয়ে দিতেন”।[২]

🔸ইমাম আবু দাউদ রহ. বলেন, “আব্দুল্লাহ বিন আমের বর্ণিত হাদিসের সনদ মুহাদ্দিসদের নিকট বিশুদ্ধ নয় । বিশুদ্ধ মানলেও এটা তার ব্যক্তিগত আমল, অসংখ্য সাহাবির বিপরীত তার ব্যক্তিগত আমল দলিল যোগ্য নয়।

🔹ইমাম শাওকানি রহ. বলেন: এ হাদিসের সনদে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক রয়েছে, তার সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের অভিযোগ প্রসিদ্ধ।

🔸আলবানি রহ. বলেন, হাদিসের শেষাংশ: আব্দুল্লাহর ঘটনা ব্যতীত অবশিষ্টাংশ সহিহ্”।[৩]

অতএব আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নিজের নাবালিগ বাচ্চাদের গলায় দোয়াটি লিখে ঝুলাতেন কথাটি সঠিক নয়।


📚রেফারেন্স:

[১] আহমদ : (১৬১৩৭), তিরমিযি : (৩৫২৮), আবু দাউদ: (৩৮৯৩)

[২] তিরমিযি: (৩৫২৮), আহমদ: (৬৬৫৭) এ হাদিস সহি হলে সাবালিগ বাচ্চা কিংবা বড়দের গলায় তাবিজ ঝুলানো বৈধ প্রমাণ হয় না, শুধু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বৈধ বলা যায় তাও যারা দোয়া পড়তে পারে না।

[৩] সহি তিরমিযি: (৩৫২৮), সহি হাদিস সমগ্র: (১/৫২৯), আত-তালিক আলা-মুসনাদি আহমদ: (১১/২৯৬), ‘আন-নাহজুজ সাদিদ’ লিদ-দুসারি: (১১১)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here