পরিবার পরিকল্পনায় দীর্ঘ মেয়াদী পদ্ধতি- ইমপ্লান্ট/(iud)গ্রহণের ইসলামিক হুকুম কি?

0
64

কেউ যদি পরিবার পরিকল্পনা দীর্ঘ মেয়াদী পদ্ধতি ইমপ্লান্ট অথবা আই ইউ ডি (iud)গ্রহনের ইসলামিক হুকুম কি ? এবং তা পরিহিত অবস্থায় মারা যায় তাহলে কি মারা যাবার পর এগুলো খুলতে হবে?

উত্তর: আসুন জেনে নেই, (iud) কি…
আই ইউ ডি (IUD Intra Uterine Device) জরায়ুর ভেতরে ব্যবহারের জন্য একটি কপার স্থাপন করা হয় যা জন্মবিরোধ করে। স্থায়ী কিংবা দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী জন্মবিরোধের জন্য বর্তমানে এই কপার-টি সবচাইতে জনপ্রিয়।

এমন জন্মবিরোধ পদ্ধতি কখনোই ‘পরিবার পরিকল্পনা’ হতে পারে না। বরং আমরা যখন কোন কাজের পরিকল্পনা করি সেটা যেন প্রোগ্রেসের(progress) দিকে অগ্রসর হয় সেদিকে খেয়াল রাখি।

আর পৃথিবীর বোকা মানুষগুলোকে পরিকল্পনা বলতে বুঝায়, কিভাবে রিগ্রেস (Regress) করা যায়….!

আচ্ছা, আপনার যদি একটি পুকুর থাকে এবং সফল, আদর্শবান ব্যবসায়ী হতে চান, আর সেজন্য পরিকল্পনা করেন – তাহলে কি আপনি পুকুরে মাছ চাষ বন্ধ করে দিবেন? নাকি মাছের চাষ যেন আরো দ্বিগুন হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন?

হয়তো বা আপনি মাঝে মাঝে আর্থিক পরিস্থিতি অবসার্ভ করার জন্য ৬মাস কিংবা ১, ২বছর বন্ধ রাখতে পারেন, কিন্তু আপনি যদি সফল ব্যবসায়ী হতে চান, তবে কি আপনি পুকুরের চাষ বন্ধ করে দিবেন? কখনোই না… কারন মানুষ আর্থিক প্রোগ্রেস টা ভালোই বুঝে….

আর যদি আপনি এমনটা করেন তবে আপনি সঠিক পরিকল্পনাকারী নন।

আবারো বলি, ব্যর্থ হবার জন্য কিংবা নিজেকে ধ্বংস করার জন্য গৃহিত পরিকল্পনা কখনোই ইসলামে সমর্থণ যোগ্য নয়। আল্লাহর নিকট কি কৈফিয়ত রাখবেন ভাবতে পারেন-?

সূরা বাকারার ২৩৩নং আয়াতে বলা হয়েছে, সন্তানবতী নারীরা তাদের সন্তানকে পূর্ণ ২ বছর দুধ পান করাবে। তাহলে যদি কারো প্রেগন্যান্সি টাইম (৬-৯) মাস হয় এবং জন্ম নেওয়ার পর শিশুদের আরো ২ বছর দুধ পান করায়। তাহলে প্রায় ৩ বছর সময় হয়। এবং সেই সময় থেকে যদি আরেকটি আরেকটি সম্তানের জন্ম হয়। তাহলে আরো (৬-৯) যোগ হবে। তাহলে এখানে জন্ম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রয়েছেই।

আর এই সময়টুকু পর্যন্ত কেউ কোন পদ্ধতি গ্রহণ করলে সেটা হবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যা অনুমোদিত।

স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী পদ্ধতিগ্রহণ করা হারাম ও গুনাহের কাজ। যদি এমন হয় যে, নারী গর্ভবতী হলে তার মৃত্যুর অধিক ঝুঁকি রয়েছে , কেবল তখনই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা জায়েজ।


এই বার আপনার মূল প্রশ্নে আসি,
IUD ব্যবহার করার ফলে যে কপারটি জরায়ুতে স্থাপন করা হয়, মৃত্যুর পর সেটা খোলা ফেলার প্রশ্নই আসেনা। প্রথমত, মৃত্যুর পর তার হিসাব নামা বন্ধ। জীবিত থাকতেই যখন খোলা হয়নি মৃত্যুর পর সেটার আর কি প্রয়োজন..!?

শুধু তাই না, আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে তাদেরকে যে ব্যক্তি গোসল করায় , এমন কথা ও শুনা যায় যে তারা লজ্জা স্থানের পশম তুলে পরিষ্কার করে দেয়। এটা খুবই, খুবই জঘন্য কাজ ও বিদআত… (এমনকি হাতের নখ কাটা ও গোফ কাটা ও বিদআত।)🔛(আহকামুল জানায়েজ ১৪ পৃষ্টা, মুজামুল বিদা-১২৯ পৃষ্টা)

তবে কোন কোন উলামা বলেছেন যদি নখ ও গোফ অধিক বড় থাকে তবে কাটতে পারে।
কিন্তু একনিষ্ঠ হাদিসের অনুসারীরা এটা সমর্থণ করেনা, বরং প্রাণ থাকতে যার সুন্নাতের প্রয়োজন হয়নি, প্রাণ চলে গেলে সুন্নাত দিয়ে আর কি হবে।

এখন কিছু অধিক জ্ঞানীরা বলতে পারেন, তাহলে গোসল না করিয়ে দাফন করে দিলেই ভালো, মৃত্যুর পর আর গোসলের প্রয়োজন কি..!

(মৃত ব্যক্তির ‘গোসল’ হলো “ফরজে কেফায়া” কেউ একজন করলে সবার পক্ষ হতে হয়ে যায়, অন্যথায় সবাই গুনাহ্গার হবে।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here