পর্নোগ্রাফির ইতিহাস ও কর্মক্ষেত্রে নীল ছবির প্রভাব

0
73

✊জেগে উঠো মুসলিম✊
📕রিলিভেন্ট: পর্ণ (সেকশন:০২



⏩আজকের বিষয়ে যা যা থাকছে:⤵
🔘পর্ন শব্দটির ইতিহাস
🔘পর্ন নিয়ে একটি জরিপ
🔘কর্মক্ষেত্র ও বাস্তব জীবনে নীল ছবির প্রভাব


♉পর্ন শব্দের ইতিহাস:♎

পর্নোগ্রাফি (সংক্ষেপে “পর্ন” বা “পর্নো”) (ইংরেজি: Pornography) যৌন আবেগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যৌনসংক্রান্ত বিষয়বস্তুর প্রতিকৃতি অঙ্কন বা পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা।

পর্নোগ্রাফি শব্দটি গ্রিক শব্দ “পরনোগ্রাফিয়া” থেকে নেওয়া হয়েছে। আরো বিশ্লেষণে বলতে গেলে প্রাচীন গ্রিক শব্দ ‘পর্ন’ ও ‘গ্রাফোস’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ – বারাঙ্গণাদের সম্পর্কে লেখালেখি৷ পর্ন শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘বেশ্যা’৷ আরো পরিষ্কারভাবে বললে, সবচেয়ে নীচু জাতের ‘গণিকা’ বা যৌনকর্মী৷

সুতরাং পর্নোগ্রাফির মানে কোনোভাবেই কেবল ‘যৌনকর্মের বিবরণ’ অথবা ‘কামোদ্দীপক বর্ণনা’ নয়৷ বরং পর্নোগ্রাফির অর্থ – জঘণ্য, সস্তা, ‘বেশ্যা’ রূপে নারীর চিত্রায়ন৷
(H. Mongomery Hyde (1964) A History of Pornography: 1–26.)


পর্নোগ্রাফি বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে উপস্থাপন করা হতে পারে, এর মধ্যে অর্ন্তভূক্ত রয়েছে, বই, সাময়িকী, পোষ্টকার্ড, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য, অঙ্কন, পেইন্টিং, অ্যানিমেশন, সাউন্ড রেকর্ডিং, চলচ্চিত্র, ভিডিও এবং ভিডিও গেম ও কার্টুন । আর আধুনিক প্রযুক্তির কারণে পর্নোগ্রাফি বিষয়টি একেবারেই সহজলভ্য হয়ে গেছে আজকাল , যার ভয়াবহতায় ভাসছেন আপনি, আপনার পরিবার , সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্র।


🎪পর্নোগ্রাফীর নিয়ে কয়েকটি উপাত্ত্ব:👇

🔘প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ পর্নোগ্রাফিক ছবি পোস্ট হয় মাইক্রো ব্লগিং সাইট টুইটারে। আর এসকল ছবি দেখছে শিশুরাও। কিন্তু
ডেইলি মেইল জানয়েছে, টুইটার এসকল ছবি মুছে ফেলতে আগ্রহী নয়। টুইটারে একটি টুইটের মাধ্যমেই লাখ লাখ অনুসারির কাছে সহজেই পৌঁছানো যায়। আর পর্ণ কন্টেন্ট বিষয়ে টুইটারে কোন ক্লাসিফিকেশন না থাকায় খুব সহজেই এসব ছবি চলে যাচ্ছে শিশুদের নাগালের মধ্যে। কিন্তু এরপরও এসকল কন্টেন্ট
সরাতে আগ্রহী নয় টুইটার।
(সূত্রঃঢাকা রিপোর্ট/১৫-ইএন )

🔘যদিও বিষয়টি নতুন, পর্নোগ্রাফি পৃথিবীর প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষকে আক্রান্ত করেছে। পুরনো দিনগুলোই ভালো ছিল, কারণ তখনকার লোকজন এরকম কোন বিষয়ের মুখোমুখি হয়নি যেটি তাদেরকে কামনা ও যৌনলালসার গোলাম বানিয়ে দেয়।

পুরো দুনিয়ায় প্রতি মাসে প্রায় ৭.৫ কোটি লোক প্রাপ্তবয়স্কদের (adult) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে, সার্চ ইঞ্জিনে প্রায় ২৫ শতাংশ সার্চ থাকে পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত এবং পর্নোগ্রাফি থেকে সারাবিশ্বে আয় হয় প্রায় ৫৭ বিলিয়ন ডলার।
ইন্টারনেট আসার আগে, আত্মনিয়ন্ত্রণহীন ও আত্মসম্মানহীন কিছু লোক দোকানে প্রাপ্তবয়স্কদের (adult) ম্যাগাজিন বা ভিডিও কিনতে যেতো, কিন্তু এখন বাড়িতে বসে এবং সবার চোখের আড়ালেই এগুলো পাওয়া সম্ভব ।

“সবার চোখের আড়ালে” কথাটা ঠিক না, আল্লাহ তা’লা সবসময় তো দেখছেনই।

🔘২০১২ সালের LOST MODESTY এর রিপোর্টে দেখা যায়, অষ্টম শ্রণির ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ৮২ শতাংশ মোবাইলে পর্ণ দেখে। এরই মধ্যে ক্লাসে বসেই পর্ন দেখে ৬২ শতাংশ।
এক মাসে বাংলাদেশের গুগলে (PORN) শব্দটি সার্চ করা হয়েছে ০. ৮ মিলিয়নের (৮ লক্ষ) বারেরও বেশি। আর SEX শব্দটি সার্চ করা হয়েছে ২.২ মিলিয়ন ( ২২ লক্ষ ) বারেরও বেশি। আর ২০১৮ তে এর অবস্থা কত ভয়াবহ হতে পারে কল্পনা করতে পারছিনা, কারণ বাস্তবেই দেখছি। এখন তো মনে হয় প্রতিদনেই তার চেয়ে বেশি হবে।

🔘২০০৭ সালে ১১৯ জন পর্ন স্টার মারা যান,
এর মাঝে- এইডস এ মারা যান সাতজন, মাদকাসক্তি তে চব্বিশ জন, আত্মহত্যা করেন ১৯ জন, খুন হন ১৭ জন। ছয় জন মারা যান দূর্ঘটনায়। অজ্ঞাত কারণে আরো মারা যান সাত জন। ৩৯ জন মারা যান অসুখে ভুগে। ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০৭ পর্যন্ত ১২৫ জন পর্ন স্টার মারা যান এইডস এ। তিনি বলেন, একজন পর্ন স্টার খুব কম আয়ু বেচেঁ থাকেন। গত বিশ বছরে ১২৯ জন পর্ণ স্টার এর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে যেয়ে তিনি দেখেছেন এদের অধিকাংশই মারা গিয়েছে মাদকাসক্তি, এইডস, আত্মহত্যা, খুন ইত্যাদির কারণে।
তিনি বলেন একজন পর্ন স্টারের স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৩৭-৪৩ বছর, যেখানে একজন স্বাভাবিক আমেরিকান আটাত্তর বছর পর্যন্ত বাচেঁন, অর্থাৎ সাধারণের চাইতে অর্ধেক জীবন বাচেঁন।

🔘লস এঞ্জেলস এর পাবলিক হেলথ এর রিপোর্ট অনুযায়ি, অধিকাংশ পর্ন স্টার ই যৌন রোগে ভুগছেন। তারা মূলত ২০০৩ সাল থেকেই এই ব্যাপারে নজর রাখছেন। তাদের ভাষ্যমতে একজন পর্ন স্টারের যৌন রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের চাইতে দশ গুন বেশী। দুইহাজার তেরোটি সিফিলিস্ এবং গনোরিয়াতে ৯৮৫ জন পর্ন স্টার এর হিসেব পাওয়া যায় ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মাঝে।

তবু আমরা থেমে নেই……


🔥নীল ছবির নীল প্রভাব:🔥



🚨 কর্মক্ষেত্রেও পর্নোগ্রাফি!!

পর্নোগ্রাফির বিষবাষ্প আর এর বিষাক্ত প্রভাব রেহাই দেয়নি কর্মক্ষেত্রের পরিবেশকেও। পাশ্চাত্য সভ্যতার তৈরি পর্ন ইন্ডাস্ট্রি এবং এর ন্যাক্কারজনক প্রোডাক্ট পর্নোগ্রাফি তিলে তিলে ধ্বংস করে চলেছে সারা পৃথিবীর মানুষের নীতিবোধ ও পবিত্রতা। তবে এর ক্ষতিকর প্রভাব বুমেরাং হয়ে সব থেকে বেশি আক্রান্ত করেছে স্বয়ং পাশ্চাত্য সমাজকেই। পর্নোগ্রাফির দূষিত প্রভাবে কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রের নারীদেরকে সম্মুখীন হতে হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার।

⛽ ভাবুন তো, অফিসে বসে একজন কর্মী কম্পিউটারে কাজের ফাঁকে ফাঁকে চুপিচুপি আরেকটা ট্যাব খুলে তাতে পর্ন দেখছেন।এতে কাজের ক্ষতি হচ্ছে কি না সেটা আমাদের আলোচনার বিষয় নয় তবে এতে তার কল্পনা ও চিন্তনপ্রক্রিয়া ভরে যাচ্ছে কলুষতায়।
এমন অবস্থায় তিনি তার পাশের বিপরীত লিংগের সহকর্মীর দিকে তাকালেন; হয়ত কোন জরুরি কাজের বিষয়েই তার সাথে কথা বলতে হবে। কিন্তু তিনি আর পারছেন না মনোযোগ স্থির রেখে মানুষটাকে স্বাভাবিকভাবে দেখতে।
না চাইলেও তার দৃষ্টি এমনভাবে চলে যাচ্ছে, যেভাবে একজন সহকর্মীর দিকে তার তাকানো উচিত নয় বা চিন্তা করা উচিত নয়; লুকানো ট্যাবে সদ্য দেখা চরিত্রের সাথে বারবার মিলিয়ে ফেলছেন তাকে।

আচ্ছা এবার ভাবুনতো, যদি দুর্ভাগী সেই সহকর্মীটি আপনি নিজেই হোন !
যেই কুপ্রবৃত্তির প্রভাবে পড়ে কেউ পর্ন দেখছেন, সেই একই প্রবৃত্তিই তাকে ধাবিত করছে কলুষ চিন্তা ভাবনার দিকে, ফলে ঘটে চলেছে কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্য, যৌন হয়রানি ।

❎ ৮ বছরের আসিফার মতো হাজার ও মেয়ে যারা তখন ও শিশু , এদের ধর্ষণ হওয়ার পিঁছনে পর্ণোগ্রাফী দিয়ে তৈরী আপনার বিকারগ্রস্থ মানসিকতা প্রায় শতভাগই দায়ী।

🔴২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বার্না গ্রুপ’-এর চালানো একটি জরিপে দেখা যায়, বিগত তিন মাসের মধ্যে পুরুষদের ৬৩%ই কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় পর্ন দেখেছেন; নারীদের মধ্যে এর সংখ্যাটি ৩৬%। (1)

🔘২০০৩ সালে “বিজনেস অ্যান্ড লিগ্যাল রিপোর্ট” একটি জরিপ করেছিল ৪৭৪ জন হিউম্যান রিসোর্স প্রফেশনালদের উপর, যেখানে দুই-তৃতীয়াংশ কর্মীই বলেছেন তারা তাদের অফিস কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে পর্ন পেয়েছেন (2)।
পাওয়াটা অস্বাভাবিক ও নয়। কারণ, ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার ৩৫০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চালান জরিপে জানা যায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মীই স্বীকার করেছেন অফিস কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফিক উপাদান ডাউনলোড করার কথা (3) ।

🔘ঐ একই বছরেই ‘ম্যাসেজ ল্যাবস’-এর রিপোর্টে দেখা গেল, সারাদিনের ভেতর পর্নসাইটগুলোতে সবচেয়ে বেশি হিট পড়ে সকাল ৯টা থেকে ৫টার মধ্যে- যখন কি না অধিকাংশ মানুষই থাকে কর্মস্থলে। তার মানে তারা সারাদিনের ভেতর পর্ন দেখার জন্য অফিসের সময়টাকে নির্বিঘ্ন বলে বেছে নেন, এতটাই নেশা…… !

কলুষতার সাথে বসবাস করলে এর প্রভাব আচরণ, কাজে-কর্মে পড়বেই । এরই এক উদাহরণ কর্মক্ষেত্রে নারীদের হয়রানি ।

🔘‘Survey Monkey’ নামক একটি সংস্থা ২২৩৫ জন পূর্ণ ও খন্ডকালীন নারী কর্মীর উপর জরিপ চালিয়ে ফলাফল পায়, ১৮ থেকে ৩৪ বছরবয়সী মহিলা কর্মীদের প্রতি ৩ জনের মধ্যে ১ জনই কর্মস্থলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা সহকর্মীর দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হন।এদের মধ্যে শতকরা ৮১ জন জানিয়েছেন তারা মৌখিক হয়রানির (অশালীন ইংগিত/মন্তব্য) শিকার। অন্য দিকে শতকরা ২৫ জন বলেছেন, তারা চুড়ান্ত অশালীন ক্ষুদে বার্তা বা ই-মেইল পান এবং শতকরা ৪৪ জন অভিযোগ করেছেন যে তারা অনাকাংক্ষিত স্পর্শের সম্মুখীন হয়েছেন।

🔼জরিপে আরো দেখা যায় যে, হয়রানির শিকার মহিলাদের শতকরা ৭১ জনই এ ব্যাপারে কোন রিপোর্ট করেন না চাকরি হারানোর ভয়, তার কথা কেউ পাত্তা দেবে না, মূল অপরাধীর বদলে বরং তাকেই সবাই দোষ দেবে ইত্যাদি চিন্তা করে তারা সাহস করে মুখ না খুলে বিষয়গুলো চেপে যান এবং দুঃখজনক হলেও সত্যি, অনেক সময় এধরনের অভিযোগ তোলা হলে হয়রানিকারীর দোষ না দেখে ভুক্ত ভোগীকেই দোষী বলা হয়।

🔽আবার কিছুক্ষেত্রে দেখা যায় মানুষ এই আচরনকে মজা বা কৌতুক হিসেবে নেয়।ফলে ভুক্তভোগী মনে করে এ ব্যাপারে কিছু বললে বা অভিযোগ করলে অন্যরা তাকে অসামাজিক বা রসবোধহীন মনে করবে।এমনকি যেসব পেশাকে খুব সম্মানজনক বলে ধরে নেওয়া হয় সেখানেও এই অন্ধকার দিকগুলো বিদ্যমান। উদাহরণস্বরুপ: সেনাবাহিনীর সদস্যদের কথা বলা যায়, যেখানে কেউই নিরাপদ নন!

❎ শুধুমাত্র নারীরাই না, পুরুষরাও কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হন। আইনজীবি স্লেটার আর. গর্ডন কর্তৃক প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, কর্মস্থলে নারী ও পুরুষ উভয়ই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং তা বেড়েই চলেছে। প্রায় ৪০% পুরুষ এ ব্যাপারে রিপোর্ট করেন ।
কিন্তু আরও বাকি ৬০% পুরুষ এই ধরনের ঘটনা নিজেদের মাঝেই চেপে রাখেন এবং এটাই এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে (4&5) ।

“পুরুষদের মধ্যে, পর্নোগ্রাফির যে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রভাবটি দেখা যায় তা হলো, ‘‘হস্তমৈথুনের কারণে একই দিনে মোট যৌন নিষ্ক্রমনের সংখ্যায় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি’’ এবং ‘‘অধিকাংশই [এই] অভিজ্ঞতাটিকে পরিমিতরূপে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী, উপভোগ্য এবং মোটামুটিভাবে আনন্দদায়ক হিসেবেই পেয়ে থাকেন। যদিও, অনেকেই বিতৃষ্ণ, লজ্জিত এবং অভিঘানিত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন।’’ (6)


আসল কথা হল পর্ণ ইন্ড্রাস্টীর মুনাফার অংকটা বেশ বড় । আর এ কারনেই বিশ্বজুড়ে পর্ণমুভির ভয়াবহ বিস্তার । এবং ব্যক্তিজীবনে, সমাজ জীবনে পর্ণ মুভির ভয়াবহতা দেখেও পর্ণ মুভির বিস্তার ঠেকানোর সেরকম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ কেউ নেয় না ।

ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক বছর আগে সরকার একটা উদ্যোগ নিয়েছিল আইন করে পর্ণ মুভির ভয়াবহ প্রসার বন্ধ করার । কিন্তু তথাকথিত “প্রগতিশীলরা” এটা হজম করতে পারলো না কারণ ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন ধর্মীয় কমিউনিটি বিশেষ করে মুসলিম কমিউনিটি সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছিল এবং সাপোর্ট করেছিল এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য । সেই তথাকথিত ‘প্রগতিশীল এবং মুক্তমনাদের’ প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত সরকার সেই আইনটি আর পাশ করাতে পারেনি । এই পর্ণমুভির কারণে বর্তমান ইন্দোনেশিয়ান ও বাংলাদেশের তরুণ- তরুনীদের মানসিকতা কতটা নীচে নেমে গেছে তা আপনি-আমি হয়তো ভাবতেও পারবো না । ইউটিউবে তারা নিয়মিত এমন সব ভিডিও আপলোড দেয় যা অনেক সময় পর্ণ মুভির বেহায়াপনাকেও হার মানায় ।

(একটি এন্টিপর্ণ ওয়েবসাইটের কমেন্ট সেকশনে করা একজন ইন্দোনেশিয়ান মুসলিমের কমেন্টের চুম্বুকাংশ)

# ……. বিশ্বায়নের একটি অভাবিত ফল হল উন্নয়নশীল বিশ্বে পশ্চিমা পর্ণোগ্রাফির জঘন্য প্রভাব বিস্তার। অনেক অনুন্নত দেশের গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা সত্ত্বেও জেনারেটর চালিয়ে গ্রামের একটি কুঁড়েঘরকে অশ্লীল সিনেমা হলে পরিণত করা হয়, যা তরুণদেরকে বানায় ধর্ষক; উৎসাহিত করে নারীদেরকে নির্যাতন করতে। তরুণরা লাগামহীন ভাবে পর্ণ মুভি দেখছে আর যা দেখছে ঠিক তা-ই বাস্তবে করতে গিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা, অনাচার আর HIVএর সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। এইডস কমিশনের প্রধানের বিবৃতি অনুযায়ী, পর্ণোগ্রাফি হল এমন এক টাইমবোমা যা তাদের সকল জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
জরিপে দেখা গেছে যে HIV আক্রান্ত বিবাহিতদের যৌনশিক্ষার উৎস হল ল্যাটিন আমেরিকায় তৈরি পর্ণোগ্রাফি” .

—- টিম স্যামুয়েলস ( চলচ্চিত্র নির্মাতা,বিবিসি প্রামাণ্য চিত্র “Hardcore Profits”(২০০৯) The Guardian “Africa Goes Hardcore” )

রেফারেন্স-

1) 2014 Pornography Survey and Statistics. Proven Men Ministries. http://www. provenmen.org/2014pornsurvey/ (accessed Dec. 29, 2014).

2) Michael Leahy, Porn @ Work: Exposing the Office’s #1 Addiction(Chicago: Northfield Publishing, 2009).

3) Bob Sullivan, “Porn at work problem persists,” MSNBC News,Sept.6,2004.http://www.msnbc.msn.com/id/5899345/ (accessed Dec. 27, 2012).

4) http://www. theguardian.com/lifeandstyle/womens-blog/2013/oct/23/sexual-harassment-workplace-endemic-women

5) http://m. huffpost.com/us/entry/6713814

6) Marvin Browna, Donald M. Amorosoa & Edward E. Warea (২০১০)। “Behavioral Effects of Viewing Pornography”। The Journal of Social Psychology। 98 (2): 235–245।

🔽🔽🔽🔽🔽🔽🔽🔽🔽🔽🔽🔽🔽🔽🔽
আগামী পর্বে “আদর্শ সন্তান পালনে অভিভাবকদের করণীয়” নিয়ে আলোচনা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here