বাবার ব্যর্থ যৌবন পর্ব:০১

0
34
বাবার ব্যর্থ যৌবন

আমাদের সমাজে ছেলেরা ঠিক সময়ে বিয়ে করতে পারছেনা। বাবা ও চাচ্ছে না ছেলের গ্রেজুয়েশন শেষ হবার পূর্বে বিয়ে করুক। ছেলের ও ইচ্ছে নেই দায়িত্বটা স্থায়ীভাবে নেওয়ার। কারন অস্থায়ী দায়িত্বেই সে নিজেকে একবার চালিয়ে দেখে নিচ্ছে হিমশিমের মাধ্যমে (সংসারের পূর্বে চলমান প্রেমকে বুঝানো হয়েছে)। আবার যাদের ইচ্ছে আছে হালালভাবে দায়িত্ব নেওয়ার তারাও বাবার অমতে সামর্থ্য ও সাহস দেখাতে পারছেনা।

কিন্তু এর ফলে কি হচ্ছে এই সমাজের আপনি জানেন?বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটা ছেলের গ্রেজুয়েশন শেষ করে হালকা চাকুরী পেতে সময় লেগে যায় ২৮-৩০ বছর। অথচ আবহাওয়ার কারনে যৌবন তাকে গিলে খাচ্ছে তার ১৪-১৫ বয়স থেকেই। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে সে দাঁড়ায় ১৮-১৯ বছর বয়সে। এটা তো সেই সময় যৌবন যখন পাহাড়কে ধ্বসিয়ে দেওয়ার হুংকার দেয়। তবুও বাবা উদাসীন ছেলের প্রতি। তাক্বওয়াবিহীন ছেলেগুলো ততদিনে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে যায়, কখনো কখনো সেই অবৈধকে বৈধ করার মতো অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে । কিন্তু পরে আর সেটা হয়ে উঠেনা আধুনিক বিজ্ঞানের কারনে (এবোরশন)। অবৈধ সম্পর্ক গুলো একটা সময় মৃত্যু মুখে নিয়ে যায়। পত্রিকায় আসে আত্মহত্যা ও ধর্ষণের খবর। শুধু বাংলাদেশে প্রেমের নামে যত নারীর সতীত্ব নষ্ট হচ্ছে, তা যদি ধর্ষণের আওতায় আনা হতো তাহলে প্রতি সেকেন্ডে, কত হাজার বার, কতটি নারী ধর্ষিত হচ্ছে তা চিন্তা করলে গা শিহরে ওঠে!এভাবেই একটি যৌবন দীপ্ত ছেলের পড়াশুনার পাশাপাশি আরো কয়েকটা গ্রেজুয়েশন চলতে থাকে। কে নিবে এইসব পাপের বোঝা?পাপ.. এই শব্দটাই এখন অনেকের কাছেই হাস্যকর। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কি তারা সুস্থ্যজীবন যাপন করতে পারছে?

সমাজের আরেক ছেলের প্রদর্শণ মিলে। তারা কিছুটা লাজুক এবং কিছুটা তাক্বওয়াশীল হওয়ার কারনে প্রেম শব্দটা সহজে মেনে নিতে পারেনা। নিজেদের তাদের থেকে যথেষ্ট দূরে রাখলেও, নিজের আত্মা ও লালসাময়ী চোখকে বাঁচাতে পারেনা নীল পর্দা থেকে। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত যৌবনে পদার্পিত যুবকগুলো নিজেদের ভাসিয়ে দিচ্ছে পর্নোগ্রাফিতে,যৌবনকে পুষিয়ে নিচ্ছে হস্তমৈথুন্যের থাবায়। গ্রেজুয়েশনের ২৮/৩০ বছর পেরিয়ে যখন চাকুরী হাতে আসে,তখন ঐ লজ্জ্বাময়ী ছেলেগুলো বিয়ের নাম নিতেই আতঙ্কে উঠে। ছেলের এই আতঙ্ক ,অভিভাবকের কাছে ‘লজ্জ্বা স্বভাবের ছেলেটি’ বলেই বেশি পরিচিত। কিন্তু সে ই জানে কি ঘটেছে তার সাথে,গত দীর্ঘ ১০-১২টি বছর। যার নমুনা বর্তমানে বিভিন্ন যৌবনদীপ্ত মেডিসিনের ব্যানারের সংখ্যা দেখলেই বুঝা যায়। ২৮-৩০ বছর বয়সে যখন সেই ছেলেটিকে বিয়ে করিয়ে দেয়া হয়, তার ৩-৫ বছর পরই স্ত্রী কে চলে যেতে হয় স্বামী ছেড়ে কিংবা লিপ্ত হতে হয় পরকীয়ায়। স্ত্রীর এই অশ্লীলতা স্বামী যেন খুব সহজেই মেনে নিয়েছে, কারন সে জানে যদি সে মেনে না নেয় তার সমাজ তাকে ও মেনে নিতে পারবেনা। ফলস্রুতিতে একটা সময় শুরু হয় অশান্তি, মানসিক দু:চিন্তা। ছাড়া-ছাড়ি কিংবা আত্মাকে হত্যা করা ব্যতীত অধিকাংশের হাতেই আর কোনো অপশন থাকে না।

আজ ছেলেটির এই পরিণতির জন্য কে দায়ী? কে নিবে ১০-১২ বছরের সেই যৌবনের পাপ গুলো?কিন্তু আজ যদি বাবা তার সন্তানকে অন্তত ২০ বছর বয়সেও বিয়ে করিয়ে দিতো তাহলে তাকে অবৈধ জেনায় কিংবা পর্নোগ্রাফির দুনিয়াতে নিজের ইহকাল ও পরকাল হারাতে হতোনা। কি করেছেন প্রতিটি বাবা তার যৌবনে… ?ছেলে যখন বুড়ো হয়ে যায়, বাবা তখন মৃত্যুর কোলে ঢলে,তখন ছেলেকে তার অগাধ সম্পত্তি আর ব্যাংক ব্যালেন্সের মালিক করে দিয়ে গেলেই কি ছেলের জীবনের স্বার্থকতা আসবে,?না…মোটেও না..বরং এতে বাবার যৌবন ও ব্যর্থ হলো, ছেলের যৌবন ও ব্যর্থ।

তাহলে কি করা উচিত..!?বাবা যদি তার যৌবনে উপার্জনের সময় মনে রাখতেন যে , আমার ছেলেকে ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার, চাটার্ট একাউন্ট্যান্ট বানাবো ঠিক আছে , কিন্তু তাকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর পরই, কিংবা ২০ বছর বয়স হলেই বিয়ে করিয়ে দিবো। ছেলের যদি গ্রেজুয়েশন শেষ করে চাকুরী পেতে আরো ৬-৮ অর্থাৎ ২৬-২৮ বছর সময় ও লাগে তবুও ছেলে আমার যৌবনে উপার্জিত টাকা দিয়েই সেটা করবে। শুধু তাইনা যদি এই ৬-৮ বছরে ২-৩ টা বাচ্চা (নাতি-নাতনী) ও হয় তাদের ভরন-পোষন আমি একাই নিবো। তাহলে বাবা তার যৌবনের টাকা উত্তম কাজে ব্যয় করলো, শুধু তাই না, সন্তানের দায়িত্ব টা ও ঠিকসময়েই পালন করলো। ফলে মা-বাবার সাথে ও পুত্রও পুত্রবধু থাকার সুযোগ পেলো। যা বর্তমানে আকাশ -কুসুম কল্পনা ব্যতীত কিছুই নয়। কারন সব নারীরাই এখন আলাদা করে নিজেদের মতো থাকতে চায়। কিন্তু নারী যখন এসে দেখবে , নারীর নিজের পড়াশুনা,নারীর স্বামীর পড়াশুনা ও জীবন ধারন, এমনকি তাদের সন্তানের ও দায়-দায়িত্বটাও তার শশুর নিচ্ছে, তখন সেই নারী কখনোই সেই শশুর-শাশুড়ী ছেড়ে যেতে চাইবেনা ,যা আমার খুব কাছের পারিবারিক জীবন থেকে শিক্ষা। বাবা যদি তার উপার্জণের সবটুকু দিয়ে শূন্য ও হয়ে যায় ছেলের চাকুরীর পূর্বে , তাহলে ও সমস্যা নেই। কারন সেই ছেলে কখনোই সেই অভিভাবক কে ছেড়ে যেতে পারবেনা। কিন্তু ছেলের যৌবনের সময় না দিয়ে, ছেলের বুড়ো বয়সে যদি আপনি তাকে আপনার মৃত্যুর সময় দিয়ে যান তখন সেই টাকা দিয়ে কি করবে সে? তার তো ততক্ষনে চাকুরী ও অর্থ দুটোই আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here