সবাইকে মামা বলে ডাকার ব্যাপারে ইসলামের হুকুম জানলে নিজেকে ধিক্কার দিবেন.!

0
477

সবাইকে মামা বলে ডাকার হুকুম

.. কিরে মামা কই গেছিলি, কই ছিলি সারা রাত, মামা তু..ই করছোস ঐটা,
ও.. রে মামা, আয় বুকে আয়….
ঐ মামা যাবা…. ? কত…?

‘মামা’ শব্দটি নিয়ে এমনই নোংরামির শেষ নেই। নোংরামি বলছি এজন্য যে একটা সময় ‘মামা’ ছিলো সম্মানজনক কোন একটি নাম বা ব্যক্তির ছায়া। যেখানে সালাম ছিলো প্রথম অভিবাদন।

দুটো ‘মা’ শব্দ মিলে সৃষ্টি হয় একটি মামা শব্দের(মা+মা )= মামা। ‘মা’ হলো পরম শ্রদ্ধেয় নারী , সেই নারী থেকে সৃষ্ট কোন কিছুই নোংরা হতে পারে না…!

যাইহোক, এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। আল্লাহ্ আয ওয়া যাল বলেন: (মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। হুজরাত:১০)
মুসলমানরা বড় হবে পিতৃপরিচয়ে । হাশরে মাঠে ও তাদের কে ডাকা হবে পিতার পরিচয়ে , মাতৃপরিচয়ে নয়। তারপর ও কেন আমরা একে অন্যকে ডাকবো?

📖আল্লাহ্ সুবহানাহু তা’লা বলেন:

ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ فَإِن لَّمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُم بِهِ وَلَٰكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
(সূরা আহযাব:০৫)

সুতরাং,

যদি অপরিচিত কাউকে ডাকতে হয় তবে তাকে পিতৃপরিচয়ে ডাকবো। যেমন, চাচা, বাতিজা, কাকা ইত্যাদি। রসূল (স:), উসমান ও উমর (রা:) সহ কিছু সাহাবীর বর্ণনা পাওয়া যায় যেখানে যুদ্ধ ক্ষেত্রে বা অন্যত্র অপরিচিত কাউকে ‘চাচা ওবং ভাতিজা’ বলে সম্বোধন করতেন।

সহীহ্ বুখারীর দীর্ঘ একটি হাদিসের প্রথমাংশ তুলে ধরলাম ,

📙আবদুর রহমান ইব্‌নু ‘আউফ (রাঃ) বর্ণনা করেন:

তিনি বলেন, যখন আমি বদর যুদ্ধে সারিতে দাঁড়িয়ে আছি, আমি আমার ডানে বামে তাকিয়ে দেখলাম, অল্প বয়ষ্ক দু’জন আনসার যুবকের মাঝখানে আছি। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল, তাদের চেয়ে শক্তিশালীদের মধ্যে থাকি।

তখন তাদের একজন আমাকে খোঁচা দিয়ে জিজ্ঞেস করল, চাচা! আপনি কি আবূ জাহ্‌লকে চিনেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তবে ভাতিজা, তাতে তোমার দরকার কী?…… …. ( বুখারী ৩১৪১)

এই যে দেখুন, এখানে অপরিচিত একে অন্যকে চাচা ও ভাতিজা বলে ডাকছে।

তাহলে আপনি ঈমানদার বান্দা হয়ে কেনো হোটেলে, গাড়িতে, রিক্সাতে, ক্লাসে, পার্কে সর্বত্র ‘মামা, মামা’ বলে ডাকছেন..? কেনো মাতৃপরিচয়ে ডাকছেন আল্লাহর আদেশ ও রসূল (স:) এর সুন্নাহকে অবজ্ঞা করে…?

মাতৃপরিচয়ে বড় হয় তারা যাদের পিতৃ পরিচয় নেই, আর যাদের পিতার পরিচয় ঠিক নেই তারা হলো জারজ সন্তান।

🚨 (তবে ঈসা ইবনে মরিয়ম) এর বিষয়টি ভিন্ন কারণ সেটা স্রষ্টার অলৌকিকত্ত্ব.. এটা দিয়ে আবার যুক্তি দেখাতে যাবেন না, কেননা পূর্বেই সূরা আহযাবের ৫নং আয়াতে আল্লাহ্ মাতৃপরিচয়ে ডাকতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন:

“………. এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোনো গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা।” অর্থাৎ ইচ্ছকৃত ভাবে আপনি যদি কাউকে অপরিচিত মাতৃপরিচয়ে ডাকেন সেখানে গুনাহ্ রয়েছে।

ইবনে কাসির (রহ:) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন , যদি তারা মনে মনে সংকল্প করে থাকে অপরাধ করবে ( পিতৃ পরিচয়ে না ডেকে) তাহলে আল্লাহ্ তাদের মাফ করবেন না।

আজকাল পশ্চিমা দেশ গুলোতে DNA টেস্ট ছাড়া সঠিক বাবা নির্ণয় প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর পাওয়া গেলে ও লিভ টুগেদার বা অবৈধ সম্পর্কের জন্য সন্তানকে অধিকাংশ সময় মায়ের পরিচয়েই আত্মীয়স্বজন ও স্কুল-কলেজে বড় হয়ে উঠতে হয়।

আর সেই কার্লচার টাই ছেঁয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঝে।
আল্লাহর আদেশ ও সুন্নাহ্ মোতাবেক চলতে অবশ্যই আমাদেরকে মাতৃপরিচয়ে নিজেকে বড় না করে পিতৃপরিচয়ে বড় করতে হবে ও একে অন্যকে ডাকতে হবে, আর এতেই মায়ের সম্মান রক্ষা পাবে…

এখন থেকে অভিযান শুরু করুন..
এই বিষয় নিয়ে একটি ছোট ভিডিওর লিংক দেয়া হলো..

উপরের নীল লেখায় ক্লিক করুন, ভিডিওটি দেখতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here