সম অধিকার নাকি নারী অধিকার?

0
124

সম অধিকার নাকি নারী অধিকার?

সেকশন:০১ অসভ্য সমাজে এখনও শীলতার ঘ্রাণ রয়েছে। সম-অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে ‘বুড়িগঙ্গা’ কিংবা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অতিক্রম করা ‘হাড়িদীয়া’ নদীর চেয়ে বিষাক্ত ঘ্রাণ বের হবে। সেই ঘ্রাণ এখন নাকে মুখে কিংবা হাতের পশমে লাগলে ও তখন লাগবে সমস্ত দেহের, সমস্ত পশমের গোড়ায় গোড়ায়। সমস্ত দেহের কথা এজন্যই বললাম কারন ব্রাজিলে যারা সমান অধিকারের আন্দোলন করে ছিলো, তারাই ব্রাজিলে পার্ক উদ্ভোধন করলো যেখানে নারী-পুরুষ সবাই কে বস্ত্রবিহীন হয়ে প্রবেশ করতে হয়।
২০১৮ সালে ব্রাজিল সাধারণের জন্য খুলে দিচ্ছে সেই ইরোটিকাল্যান্ড। ব্রাজিলের ‘নয়ভা দে কলিনা’ শহরে তৈরি হচ্ছে সেই পার্ক। উন্মুক্ত এই পার্ক কি সত্যিই পেরেছে নারী ও পুরুষদের সম-অধিকার দিতে…!?
কিন্তু বাংলাদেশের সম-অধিকার আদায়কারী নারী-পুরুষরা যখন তা সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে তখন ও তারা হেড লাইনে (নারী-পুরুষের সম-অধিকার) শব্দগুলোতে হাইফেন উঠাতে ভুলে গেছে। তার মানে; তাদের কামনা বাসনা শয়তানের হলেও মনুষ্য আকৃতির হওয়ায় বিবেক তখনও পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি।
শুধু তাই নয়, অষ্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ার যারা সমান অধিকারের পক্ষে সংগঠন গড়ে তুললো তারাই মেয়ে হয়ে ‘বাবা’ কিংবা ‘স্বামীর’ মতো অধিকার এবং ছেলেরা ‘মা’ কিংবা ‘স্ত্রীর’ মতো অধিকার আদায় করতে চাইলো। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টির স্থায়ী সৃজনশীলতার বিকৃতি করেন না, যতক্ষণ না তিনি ইচ্ছে করেন।
সমান অধিকারই যখন চাইবেই তখন এ পর্যায়ে পিঁছিয়ে থাকলে আন্দোলনের সার্থকতা পিঁছিয়েই রয়ে যাবে। ফলে সমকামিতা ( মেয়ে-মেয়েকে বিয়ে,ছেলে-ছেলে কে বিয়ে) যখন রাষ্ট্র থেকে অনুমোদন দেয়া হয় তখন সত্যিকার অর্থেই তারা সমান অধিকারে বিজয়ী হয়েছে। আর তারাই পিছিয়ে আছে যারা এই আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করতে পারেনি অন্তত ওয়েব সাইটের ভোটের মাধ্যমে হলেও….বাংলাদেশের পাবনায় ১৩ বছরের সেই হিন্দু+মুসলিম ছেলের বিয়ে হওয়া টা সমকামিতার একটা প্রাথমিক ছাপ মাত্র। বাংলাদেশে যারা সমান অধিকার চায়, তাদের প্রতি অনুরোধ তারা যেন সরকারকে বলে, আমাদের সমান অধিকার দিন অন্যথায় সরকারী খরচে রাশিয়া কিংবা ব্রাজিলের সেই পার্কে পাঠিয়ে দিন… কেননা সম-অধিকার,সমকামিতারই পূর্ব আন্দোলন।

সেকশন:০২ আমি জানি আমাদের সমাজ পুরুষ শাসিত। তবে নারী শাসিত ছোট ছোট পরিবারের সংখ্যা এখন গাণিতিক হারে বেড়ে উঠছে। ২২-৩৫ বছরের ছেলেদের দিকে তাকালে এখন ৪৫-৫০ বছর বয়সের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। কয়েকজন বন্ধু মিলে দীর্ঘ ৫ বছর পর ও মাত্র ৫ মিনিটের আড্ডা দিলে কিংবা কোনো ল-ইয়্যারের চ্যাম্বারে বসে কিছু সময় অতিক্রম করলে বুঝা যায় নারী শাসিত সমাজ যে গাণিতিক হারে বেড়ে উঠছে।
তবে হ্যাঁ,পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষদের সুখ কেবল তার ইচ্ছার উপর ছিলো। সামান্য তাকানোতে যেটা হয়ে যেতো সেটা তারা শক্ত হাত বা লাঠি ব্যবহার করতো। তারা নারীদের মেরে নিজেকে মর্যাদাবান পুরুষ মনে করতো। আসলে তাদের এই মানসিকতাই তাদের পুরুষত্বকে নষ্ট করে দিয়েছিল। ফলে সেই পুরুষদের উত্তরসূরীরাই এখন নারী দিয়ে শাসিত…..!
কিন্তু আল-কুরআন তো কখনো নারীদের অত্যাচার করার কথা বলেনি বরং বলেছে তাদের অধিকারের কথা, দিয়েছে তাদেরকে অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় অধিক মর্যাদা। পুরুষেরা পুরুষশাসিত সমাজে যেকথা লালন করে আসতো এবং বলা হতো তাহলো – নারীরা যত বড়ই হোক নিচেই থাকতে হয়…! অথচ আল-কুরআন সেখানে বলে,”তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।” (২:১৮৭)
একে অপরের পূর্ণতা কিভাবে পেতে হয় তা এই আয়াত থেকে বুঝা যায়। পায়ের নিচের মাটি ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ সেটা না থাকলে আপনি তো ভারসাম্যহীন হয়ে যেতেন… কোমরের নিচের কাপড়ের অংশটুকুর ও গুরুত্ব রয়েছে উপরের অংশ টুকুর মতোই। যদি সেইটুকু নিচের অংশ বলে আপনি কি হেয় করে খুলে ফেলতে চান, তাহলে আপনাকেই..আমরা চাই নারীরা মুক্তিপাক শাসনের নামে অত্যাচারের সেই বলিষ্ঠ নিয়ম থেকে। কিন্তু আমরা এটা চাই না মুক্তি পাবার দাবি নিয়ে তারা ‘মুক্তমনা’ হয়ে উঠুক, তারা বলে উঠুক যে তারা নারী -পুরুষের সমান অধিকার চায়। বরং এটা চাই তারা যেন নিজেদের অধিকার বুঝে ও নারীর অধিকারের আন্দোলন করতে পারে,সম-অধিকারের নয়। কেননা এটা পূর্ণভাবে অসম্ভব, অশ্লীল ও অযৌক্তিক। যেটা মস্তিস্ক বিকৃত লজ্জ্বহীন নারী ছাড়া গঠন সম্ভব নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here