বিশুদ্ধ আমলের ব্যাপারে উদাসীনতা

0
96

ধর্মীয় বিষয় যাচাইয়ের ব্যাপারে উদাসীনতা

পাঁচ কাটা জায়গা কিনতে গিয়ে ৫০ বছরের আগের দলীল বের করে নিয়ে আসতে পারেন, যেটার মালিকানা আপনি মারা গেলেই শেষ হয়ে যাবে আপনার পক্ষ থেকে, সেটার জন্য কত কষ্ট, কত পরশ্রিম।

জমির মাপ বুঝেন না, চলে গেলেন বাজারে.. গিয়ে বই কিনে নিয়ে আসলেন, তারপর আরো বই পেতে চলে গেলেন “প্লে স্টরে”, জমির শ্রেষ্ঠ বই গুলো নিলেন। তারপর ও বুঝেন না, গেলেন ইউটিউবে, তারপর ও বুঝেন নাই.. কিন্তু আপনি তখন ও থেমে জাননি….!

ভাল ল-ইয়ার খুঁজার জন্য কত মানুষকে যে জিঙ্গেস করলেন, কতজনের কাছে যে গেলেন হিসেব নেই। শেষ পর্যন্ত গুগুল থেকে শ্রেষ্ঠ
ল-ইয়ার দের ঠিকানা খুঁজে দিনের পর দিন অপেক্ষা করে, সেই ল-ইয়ারের নিকট সিরিয়াল নিয়ে, তাকে দিয়ে আপনার ভেজালযুক্ত পাঁচ কাটা জমি কিনে নিলেন।

কত যে পরিশ্রম করলেন, কত বেলা যে না খেয়ে ঘুরেছেন, কত রাত যে না ঘুমিয়ে কাঁটিয়েছেন,শুধু টাকা টা যেন মাইর না যায় সেই চিন্তায়…..

অথচ, যাকে সবার শেষে জান্নাতে দেয়া হবে, তাকে এই দুনিয়ার সমান ১০ টি দুনিয়ার মত জান্নাত তাকে দেয়া হবে। আর সেই জান্নাতের মালিক সারা জীবন শুধু সেই হবে।

অসংখ্য নেয়ামতে পূর্ণ সেই জান্নাতের জন্য কত টুকু সময় ব্যয় করলেন, কত টুকু সময় দিলেন যাচাই বাছাইয়ের জন্য আপনার ইবাদতকে?

ধর্মের বেলা আসলেই হুজুর যা বলে তাই, অথচ হুজুরের কাছ থেকে পাওনা টাকাটা ও নেওয়ার সময় রৌদ্রের আলোতে পরীক্ষা করে নেন প্রতিটি নোট, যে জাল নাকি ঠিক আছে। আর ধর্মের বেলায় হুজুরই সব…! দুনিয়াতে বুঝ দিয়ে টিকতে পারলে ও হাশরের মাঠে পারবেন কি…?

….. শুনুন, দুনিয়ার পাঁচ কাটা জায়গা কিছু দিনের মালিকানা পাওয়ার জন্য যদি এত্ত কিছু করতে হয়, তাহলে ১০ দুনিয়ার সমান জান্নাত পেতে কতটুকু পরিশ্রম করা প্রয়োজন আপনি নিজেই ভাবুন…. আর কত খানি করেছেন?

……. কত পরীক্ষার জন্য আপনি প্রিপারেশন নিয়েছেন, কত রাত না ঘুমিয়ে পাস করার জন্য অংক কষে কাটিয়েছেন, যদিও আপনি জানেন না পরীক্ষার হল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন কিনা, যদিও আপনি জানেন না পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকবেন কিনা, তবুও পরিশ্রমে ঘাটতি দেননি।

অথচ মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও আপনি উদাসীন, আপনি পরকালের জন্য এতটুকু প্রস্তুতি ও নিলেন না ।

পড়াশোনার আধিক্যতার জন্য , আপনার ইবাদতের অবস্থা হয়ে গেলো শোচনীয়…

আফসোস… লাগে.. এখন ও আপনার বিবেকে একথা গুলো গেঁথে যায়নি বলে, আফসোস লাগে এখন আপনার আনমনা দেখে…

মনে রাখবেন, যদি আপনি জান্নাতে যাওয়ার জন্য কিছু না করেন, তবে জাহান্নাম আপনার জন্য প্রস্তুত ও অপেক্ষমান, যার প্রাথমিক সূচনা হবে কবর থেকে…..

আল্লাহ্ সুবহানাহু-তা’লা সূরা তাকাসূরে বলেন,

“প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে,
এমনকি, তোমরা কবরস্থানে পৌঁছে যাও।
এটা কখনও উচিত নয়। তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে। অতঃপর এটা কখনও উচিত নয়।
তোমরা সত্ত্বরই জেনে নেবে।
কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে।

তোমরা অবশ্যই জাহান্নাম দেখবে,
অতঃপর তোমরা তা অবশ্যই দেখবে দিব্য প্রত্যয়ে, এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।”
——সূরা তাকাসূর:১-৮

ফিরে আসুন আজই, এই মুহূর্ত থেকে আপনার আমল গুলোর লিস্ট করুন , আর কুরআন ও সহীহ হাদিস দিয়ে যাচাই শুরু করে দিন।
নিশ্চয় আল্লাহ্ আপনাকে সহায়তা করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here